kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

শিশু ভাতিজাকে হত্যার পর মাটিচাপা দিলেন চাচা-চাচি

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু ভাতিজাকে হত্যার পর মাটিচাপা দিলেন চাচা-চাচি

সাতকানিয়ায় এক বছর বয়সী একটি শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটিচাপা দিয়েছেন তার চাচা-চাচি। ঘটনার চার ঘণ্টা পর মাটি খুঁড়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। উপজেলার চরতি ইউনিয়নের সুইপুরা এলাকায় গত বুধবার বিকেলে হত্যার ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির অভিযুক্ত চাচা-চাচিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। 

নিহত শিশুটির নাম ইমরান হাসান ছামিম (১)। সে সুইপুরার মোহাম্মদ মামুন ও রিমা আকতারের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সুইপুরার মৃত আবু তাহেরের ছেলে নুরুল আবছার মানিক (২৫) এবং মানিকের স্ত্রী মারুফা আক্তার (২০)। মারুফা গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, মানিক সৌদি আরবে থাকার সময়ে তাঁর বড় ভাই মামুনের কাছে টাকা পাঠান। পরে মানিক দেশে এসে মামুনের কাছে ওই টাকা ফেরত চান, কিন্তু মামুন টাকা ফেরত দিতে পারেননি। এ নিয়ে মামুন ও মনিকের মধ্যে অনেকবার ঝগড়া হয়। চার মাস আগে মামুন স্ত্রী-সন্তানকে রেখে দুবাই চলে যান। 

এরপর মামুনের স্ত্রী রিমার কাছে মানিক একাধিকবার টাকা চান। বিষয়টি নিয়ে মানিক ও তাঁর স্ত্রী মারুফার সঙ্গে রিমার বেশ কয়েকবার ঝগড়া হয়। গত বুধবার সকালেও ঝগড়া হয়। বিকেলে রিমা ছেলে ছামিমকে দাদির কাছে রেখে গরুর জন্য বাড়ির কাছে ঘাস কাটতে যান। নাতিকে (ছামিম) খেলারত অবস্থায় রেখে আসরের নামাজ পড়তে যান দাদি। এরই মধ্যে ছামিম তাদের ঘর থেকে চাচা মানিকের ঘরে চলে যায়। চাচা-চাচি ছামিমকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তড়িঘড়ি করে লাশ ব্যাগে মুড়ে ঘরের কাছে নলকূপের পাশে গর্ত করে মাটিচাপা দেন।

নামাজ শেষে দাদি ছামিমকে ঘরে-বাইরে খুঁজতে থাকেন। রিমা ঘরে ফিরে শাশুড়ির কাছে সন্তানকে খুঁজে না পাওয়ার খবর শোনেন। রিমা ও আশপাশের লোকজন চারদিকে ছামিমকে খুঁজতে থাকে। রাত ৯টার দিকে তাঁরা মানিকের ঘরের কাছে মাটি খোঁড়ার চিহ্ন দেখতে পান। এতে সন্দেহ হলে তাঁরা সেখানে মাটি খুঁড়তে থাকেন। একপর্যায়ে মাটির নিচে ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ছামিমের লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার এবং মানিক ও মারুফাকে আটক করে থানায় নেয়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

ছামিমের মা রিমা আকতার বলেন, ‘মানিক আমার স্বামীর কাছে টাকা পায়, কিন্তু আমার নিষ্পাপ সন্তানটি কী অপরাধ করেছে? তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে আমার বুকের ধন কেড়ে নিয়েছে! আমি সন্তান হত্যার বিচার চাই।’ 

সাতকানিয়া থানার ওসি মো. সফিউর কবীর জানান, মূলত টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে শিশু ছামিমকে হত্যা করা হয়েছে। ছামিমের মা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাতকানিয়ার ঢেমশা তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মজনু মিয়া জানান, ছামিমের চাচা-চাচিকে গতকাল আদালতে নেওয়া হয়। চাচি মারুফা আক্তার আদালতে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালত স্বামী-স্ত্রী দুজনকে কারাগারে পাঠান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা