kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আমির হোসেনের পদত্যাগ চেয়েছেন উপাচার্য সমর্থক শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন 'বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ' থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়। দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে পদত্যাগ দাবির এক দিনের মাথায় উপাচার্য সমর্থকদের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা দেওয়া হলো। 

সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষার দাবির আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে দুর্নীতির 'কল্পিত' অভিযোগ এনে শিক্ষকদের একটি অংশ উপাচার্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে যাচ্ছে। এর পেছনে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির ও উপ-উপাচার্য আমির হোসেনের মদদ রয়েছে- এটা এখন স্পষ্ট।'

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গত বুধবার মুঠোফোন সংযোগ বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে উপ-উপাচার্য আমির হোসেন অংশ নেননি। এর মাধ্যমে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। সংগঠনটির দাবি, বৈঠকে অংশ না নিয়ে অধ্যাপক আমির বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংকট সমাধানের পথ জটিল করে নিজে উপাচার্য হবার পায়তারা করছেন।

বিবৃতিতে তারা অধ্যাপক আমির হোসেনের বিরুদ্ধে উপাচার্যকে বিভিন্ন কাজে অসহযোগিতা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া, আন্দোলনরত শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার প্রয়াস ভেস্তে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। 

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি দাবির কথা জানায় উপাচার্য সমর্থক শিক্ষকরা। দাবিগুলো হলো উপ-উপাচার্যের পদ থেকে আমির হোসেনকে পদত্যাগ করতে হবে, তার বিরুদ্ধে ভর্তি কেলেঙ্কারির দায়ে গঠিত আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটির কাজ শেষ করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ভর্তিসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ থেকে তাকে বিরত রাখতে হবে। এ ছাড়া সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর দাবিও জানানো হয়ে ওই বিবৃতিতে। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠকের আগের রাতে আমার মুঠোফোন সংযোগ বন্ধ করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এতে মদদ রয়েছে। এর আগে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বিভিন্ন সময় আমাকে তার গ্রুপে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু আমি আমার আদর্শচ্যুত হতে চাইনি। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মাননীয় আচার্য। আমার কোনো কর্মকাণ্ডে কারণ দর্শানো কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ারও আচার্যের।

আর উপাচার্য সমর্থক শিক্ষকদের অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, তারা কী বিবৃতি দিয়েছে এটা তাদের বিষয়। আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা