kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

কালের কণ্ঠ প্রতিনিধির হস্তক্ষেপ, বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল তৃষা ও মরিয়ম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কালের কণ্ঠ প্রতিনিধির হস্তক্ষেপ, বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল তৃষা ও মরিয়ম

১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকায় স্বাক্ষর করে আইনের হাত থেকে রক্ষা পায় পরিবারের লোকজন। ছবি : কালের কণ্ঠ

আগামীকাল (শুক্রবার) হওয়ার কথা ছিল নবম শ্রেণি পড়ুয়া নুসরাত জাহান তৃষার (১৫) বিয়ে। গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বাধাবিপত্তির পর অবশেষে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, সহপাঠী ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহযোগিতায় বিয়েটি বন্ধ করা হয়। অপরদিকে আজ বৃহস্পতিবার ১৩ বছর বয়সের মাদরাসাছাত্রী মরিয়মকে বরপক্ষ দেখতে এসে পছন্দের পর বিয়ের প্রক্রিয়া চলছিল। এমন সময় এ প্রতিনিধির কাছে খবর আসলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পায় মরিয়ম। এ সময় ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকায় স্বাক্ষর করে আইনের হাত থেকে রক্ষা পায় পরিবারের লোকজন। 

আজ বৃহস্পতিবার এ দুটি ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চর উত্তরবন্দ ও আঁচারগাও ইউনিয়নের হাওলাপাড়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চর উত্তরবন্দ গ্রামের মো. হুমায়ুন শিকদারের মেয়ে নুসরাত জাহান তৃষা স্থানীয় চর উত্তরবন্দ এমএইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। বিয়ে ঠিক হয় পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ইদ্রিস আলী ভুইয়া ছেলে রবেল ভুইয়ার সাথে। আগামীকাল শুক্রবার ছিল কনের বাড়িতে বিয়ে। পর দিন শনিবার বৌভাত উপলক্ষে কনের পক্ষ থেকে বিয়ের কার্ডও বিতরণ সম্পন্ন হয়। গত এক সপ্তাহ আগে ঘটনাটি জানতে পেরে এ প্রতিনিধি নান্দাইল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তারের শনষ নেন। তিনি কনের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিয়ে বন্ধের নির্দেশ প্রধান করেন। কিন্তু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ না হওয়ায় এ প্রতিনিধির তৎপরতায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনের বাবাকে বিদ্যালয়ে ডেকে এনে এই বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেন। তারপরও বিয়ের কার্যক্রম চালালে আইনি পদক্ষেপের কথা জানান। পরে আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের হস্তক্ষেপে বিয়ের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন কনের বাবা।

অপরদিকে উপজেলার আঁচারগাও ইউনিয়নের হাওলাপাড়া গ্রামের প্রবাসী গোলাপ মিয়ার মেয়ে মরিয়ম আক্তার (১৩) নান্দাইল পৌর সদরের একটি কওমি মাদরাসায় নাহভেমির শ্রেলিতে (সপ্তম শ্রেণি সমমান) পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার হঠাৎ তাকে দেখতে আসে পাশের কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খিলপাড় মহল্লার আব্দুছ ছাত্তার ও তার লোকজন। ঢাকায় একটি বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করা ছেলে জাকির হোসেন হচ্ছে বর। বেলা ৩টার পর কয়েকটি ইজিবাইকযোগে কনের বাড়িতে এসে আপ্যায়িত হয়। একপর্যায়ে মেয়ে দেখে পছন্দ হওয়ায় বিয়ের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় এ প্রতিনিধি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে। সাংবাদিক আগমন টের পেয়ে বরের লোকজন কেটে পড়লে কনের বাবাকে খোঁজ করা হয়। তিনিও লাপাত্তা হয়ে যান। পরে মেয়ের জন্ম নিবন্ধন চাইলে কনের পক্ষের কেউ জন্ম নিবন্ধন দেখাতে পারেননি। একপর্যায়ে কনের চাচা ও ভাই পরিচয়ে দুজন ক্ষিপ্ত হয়ে এ প্রতিনিধির সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে তদবির করতে থাকেন। এ সময় বরের পক্ষের মাসুদ রানা নামে একজন নিজেকে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে বাল্যবিয়ের সংজ্ঞা জানতে চেয়ে এ প্রতিনিধির পরিচয়পত্র দেখতে চান। দেখাতে না চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ে করাবেন বলেই হুমকি দেন। পরে নান্দাইল থানার ওসি মনসুর আহাম্মাদের নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান একজন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল করিম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মিজানুর রহমান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির সকলেই কেটে পড়ে। এ সময় কনের বাবার কাছ থেকে বিয়ে দেবেন না মর্মে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, প্রশাসন ও বাল্যবিয়ে ঠেকানো আলোচিত ঘাসফড়িং এর সহায়তা নিয়ে এ প্রতিনিধির এই দুই বিয়ে নিয়ে মোট ৬৮টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হলো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা