kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

বিনা চিকিৎসায় হাত হারাতে বসেছে আফজাল

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিনা চিকিৎসায় হাত হারাতে বসেছে আফজাল

নরসিংদীর রায়পুরায় সমাপ্ত হওয়া আন্তঃপ্রাথমিক বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বহিরাগত এক মাদরাসাছাত্রকে দিয়ে স্কুল টিম করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে খেলায় অংশগ্রহণ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মনিপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুনাহারের বিরুদ্ধে। পরে মো. আফজাল মিয়া নামে ওই ছাত্র খেলতে গেলে তার বাম হাতের হাড় ভেঙে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই মাদরাসাছাত্রের বয়সও গোপন করা হয়েছিল। জন্মসনদে তার জন্ম তারিখ ২০০৩ সালের ৫ জুন। জন্মসনদ সূত্রে, তার বয়স ১৬ বছরের ওপরে। মানা হয়নি বয়সের বিধান।

পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আফজাল উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের হারমারা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. বাছেদ মিয়ার ছেলে ও মহিষবের তামিরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের অভিযোগ এ ব্যাপারে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার জন্য কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি। তার বাবা বাছেদ ওই দেশে অবৈধ হওয়া সেখানে তিনি বেকার হয়ে পড়েছেন। এতদিন ধার-দেনা করে সন্তানের চিকিৎসার করানো হলেও। অস্বচ্ছল পরিবারটি পক্ষে এখন চিকিৎসার অর্থ জোগানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়া আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

এ ব্যাপারে ওই ছাত্রের মা আঙুরের নেছা বলেন, মাদরাসা বন্ধ থাকায় তার ছেলে বাড়িতে আসলে প্রধান শিক্ষক নূরুনাহার তার ছেলেকে আন্তঃপ্রাথমিক বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে স্কুলের হয়ে খেলতে অনুরোধ করেন। পরে রায়পুরা সরকারি কলেজ মাঠে খেলতে গিয়ে ছেলের বাম হাতের হাড় ভেঙে যায়।

তার অভিযোগ, ছেলের চিকিৎসার জন্য স্কুল থেকে কোনো প্রকার সহযোগিতা তিনি পাননি। এতদিন ধার-দেনা করে চিকিৎসার খরচ চালিয়ে গেলেও এখন অর্থের অভাবে সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। ওই সময় তিনি জানান, আগে তার ছেলে স্কুলটিতে পড়াশোনা করলেও বর্তমানে সে মাদরাসার ছাত্র।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক নূরুনাহারের সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, সে মনিপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। চতুর্থ শ্রেণি পড়া অবস্থায় মাদরাসায় গিয়ে ভর্তি হয়। পরে আবার তার অবিভাবকের অনুরোধে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি নেয়। তিনি আরো বলেন, হাত ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে তিনি চিকিৎসা করিয়েছেন ও নগদ অর্থ বাবদ ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে রায়পুরা উপজেরা শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ বলেন, তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন সে এই স্কুলেই ছাত্র। তিনি বলেন, খেলতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রের চিকিৎসাও করিয়েছেন। তবে সে স্কুলে না জানিয়ে গোপনে মাদরাসায় ভর্তি হয়ে থাকতে পারে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা