kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

শিশুকন্যার বিয়ে দিয়ে মা গেলেন জেলে

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিশুকন্যার বিয়ে দিয়ে মা গেলেন জেলে

স্কুল পড়ুয়া কন্যার বিয়ে দিতে বাড়িতে ছিল জমজমাট আয়োজন। স্বজনেরা করছিলেন উল্লাস। বরপক্ষ যখন খাবার টেবিলে ব্যস্ত ঠিক তখনই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হানা দেন বিয়ের আসরে। বাড়ির পেছন পথে পালিয়ে যান বিয়ে বাড়ির সব মেহমান। উধাও বরপক্ষ। কনের মা মাহমুদা খাতুন ধরা পড়েন পুলিশের হাতে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বাল্যবিয়ে আয়োজনের অপরাধে। ঘটনাটি নওগাঁ সাপাহার বড় মির্জাপুর গ্রামের।

সূত্র জানায়, বড় মির্জাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলম তার মেয়েকে কয়েকদিন আগে বিয়ে দেন। কনে অষ্টম শ্রেনীতে পড়া মাসুমা খাতুন (১৪)। বর পাশের পত্নীতলা উপজেলার মহেশপুর খানপাড়া গ্রামের মামুন হোসেন। তার বাবার নাম আব্দুল লতিফ। দুপক্ষ অনেকটা গোপনে বাল্যবিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। তবে সামাজিকতা রক্ষায় বৃহস্পতিবার কনের বাড়িতে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানের। বড় মির্জাপুর গ্রামে বিয়েবাড়ির এ অনুষ্ঠানের খবর পৌছে যায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) সোহরাব হোসেনের কাছে। তিনি নানাভাবে বাল্যবিয়ের তথ্য যাচাই করে অভিযানের প্রস্তুতি নেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশসহ বিয়ে বাড়িতে হাজির হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহরাব হোসেন। তখন সেখানে চলছিল খাওয়া দাওয়া। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সটকে পড়েন বরসহ বিয়ে বাড়ির লোকজন। এক পর্যায়ে কনের মা মাহমুদা খাতুনকে ধরে আনে পুলিশ। বিয়ের বয়স হওয়ার আগেই মেয়েকে বিয়ে দেয়ার অপরাধ তিনি স্বীকার করে নেন। এরপর মুচলেকা গ্রহণের পাশাপাশি বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাহমুদা খাতুনকে ৬মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অল্পবয়সী মেয়েকে বিয়ে দিয়ে মায়ের কারাবরণের এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা