kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও দুই মেয়েকে গলা কেটে হত্যা, ঘাতক আটক

দিলীপ কুমার মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও দুই মেয়েকে গলা কেটে হত্যা, ঘাতক আটক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পারিবারিক কলহের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা ও দুই মেয়েকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আব্বাস মিয়া আটক হয়েছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজের সামনে থেকে তাকে ডিবির একটি টিম আটক করে। তিনিই মূল ঘাতক। একটি চাকু দিয়েই তিনজনকে হত্যা করেছে সে। তার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি নিজের মেয়েও। তাকেও ছুরিকাঘাত করে জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। ডিবির পরিদর্শক এনামুল হক আব্বাস মিয়াকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এনামুল হক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্বাসকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
 
আজ সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিআই খোলা এলাকার বহুতল ভবনের ছয়তলার বাসা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
 
নিহতরা হলো সুমন মিয়ার স্ত্রী নাসরিন বেগম (২৬), তাঁর মেয়ে নুসরাত (৮) ও খাদিজা (২)। নাসরিনের বোনের মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বামী সুমন জানান, তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার পেট্রল পাম্পে রাতে ডিউটি শেষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাসায় ফেরেন। ওই সময় বাসার দরজা খোলা ছিল। ভেতরে প্রবেশ করতেই স্ত্রী-সন্তানদের লাশ দেখতে পান। আর আহত অবস্থায় আত্মীয় সুমাইয়া পড়ে আছে। পরে অন্য ভাড়াটিয়া ও আত্মীয়-স্বজনকে সহ পুলিশকে খবর দেওয়া গয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। তবে কে বা করা করেছে এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কিছুই বলতে পারছে না।

গুরুতর আহত সুমাইয়া হাসপাতালে পুলিশকে বলেছেন, আমার বাবা আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমার বাবাই খালামনি নাসরিন বেগম ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করেছে। বাবা মাদকাসক্ত ছিলেন। গতকালও আমাকে মারধর করেছে। সে কারণেই গতকাল আমি ও আমার মা খালামনির বাসায় চলে আসি।
 
নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, প্রায়ই মাদক সেবন করে আমার বড় বোনের স্বামী আব্বাস মিয়া বাড়িতে এসে মারধর করত সকলকে। এ ঘটনায় আমার ভাগ্নি সুমাইয়া বাড়ি থেকে লুকিয়ে পালিয়ে খালার বাসায় বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) চলে আসে। পরে রাতের কোনো একসময় তাকে নিতে আসে আব্বাস। আব্বাসই তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করে নিজের মেয়েকেও কুপিয়ে আহত করেছে।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, মূলত পারিবারিক কলহের জের ধরেই তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ (বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এ হত্যাকাণ্ডের ঘাতক হলেন আব্বাস। আব্বাসের সাথে তার স্ত্রীর বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের কারণে জিদ করে আব্বাসের শ্যালিকার বাসায় স্ত্রী চলে আসে। সে একটি গার্মেন্টে চাকরি করে। বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় চলে যায়। শ্যালিকার সঙ্গে আলাপকালে কোনো বিরোধের জের ধরেই শ্যালিকা ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করেছে। আর আব্বাস তার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও জখম করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা