kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

ব্রুনাইয়ে ছাদ থেকে পড়ে আহত বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:১১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্রুনাইয়ে ছাদ থেকে পড়ে আহত বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

ব্রুনাইয়ে নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে আহত বাংলাদেশি শ্রমিক কনু মিয়া সেদেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের দ্বিপবন্দ বিলপার (গোবিন্দনগর) গ্রামের মৃত ময়নার ছেলে।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ২ টায় ব্রুনাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা যান তিনি। কনু মিয়া ওই ভবনের নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন। এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জনক তিনি।

জানা গেছে, কনু মিয়া ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। পরিবারে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে ও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় কয়েক মাস আগে অনেক ধারদেনা করে তিনি প্রবাসে পাড়ি দেন। সেখানে গিয়ে কাজ ও বেতন ভালো না হওয়ায় এখনো ঋণ পরিশোধ করা হয়নি তার।

বিষয়টি নিশ্চিত কনু মিয়ার দেশে থাকা চাচাত ভাই ও খাজাঞ্চী ইউপি সদস্য সিরাজ মিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, সম্প্রতি তার চাচাত ভাই বাংলাদেশ ত্যাগ করে মধ্যপ্রাচ্যের ব্রুনাইয়ে যান। তিনি গত মঙ্গলবার ব্রুনাইয়ে তিনতলা নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। কাজের সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিনতলার ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ওই দেশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অবস্থায় তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সময় গত বুধবার রাত ২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

তিনি বলেন, কনু মিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে দিশেহারা হয়ে গেছেন দেশে থাকা স্বজনরা। স্বামীর মৃত্যুর খবরে স্ত্রী লাভলী বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তার সন্তানরা কিছু না বুঝে কেবল ফ্যালফ্যাল করে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা এখনো বুঝতে পারছে না তাদের বাবা না আর নেই। তার লাশটি দেশে আনার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান। 

এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকার কৃতি সন্তান ব্রুনাইয়ের তিনতলা ভবন থেকে প্রথমে আহত হন। পরে সেদেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে মারা যান বলে তার পরিবার বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা