kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

হবিগঞ্জে ১৫ মাসে ১৩ হাজার মামলা নিষ্পত্তি

ভোগান্তি থেকে রেহাই পেয়েছে বিচারপ্রার্থীরা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:২০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হবিগঞ্জে ১৫ মাসে ১৩ হাজার মামলা নিষ্পত্তি

মামলার জেলা হিসাবে পরিচিত হবিগঞ্জ জেলার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ১৫ মাসে রেকর্ড পরিমাণ ১৩ হাজার ১২৪টি মামলার নিস্পত্তি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের মামলার জট কমে এসেছে অনেকটা। ফলে বিচারপ্রার্থীদের অনেক দুর্ভোগ লাগব হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জে মুখ্য বিচারিক হাকিম হিসাবে তানিয়া কামাল যোগদান করার পর এই মামলা জট কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করলে দ্রুতই কমতে থাকে মামলার সংখ্যা। বিশেষ করে পুরাতন মামলা নিস্পত্তি হওয়ায় সাধারণ জনগণ ভোগান্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন।

মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে জে এম (জুডিসিয়াল মুন্সিখানা) সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হবিগঞ্জে মুখ্য বিচারিক হাকিম হিসাবে যোগদান করেন। এর পর ওই বছরের ১৪ নভেম্বর সক্রিয় হয় হবিগঞ্জে নবনির্মিত চিফ জুডিসিয়াল ভবন। তিনি যখন হবিগঞ্জে যোগদান করেন তখন বিচারাধীন মামলা ছিল ১৯ হাজার ৮৭৭টি। ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত এখানে নতুন মামলা দায়ের করা হয় ১১ হাজার ৮৭৭টি। কিন্তু মুখ্য বিচারিক হাকিম তানিয়া কামাল এর নেতৃত্বে সকল বিচারকরা মিলে ওই সময়ে নিস্পত্তি করেন ১৩ হাজার ১২৪টি মামলা, যা দায়েরের তুলনায় ১ হাজার ৩৭৭টি বেশি। নিস্পত্তিকৃত মামলার মাঝে ১০ বছরের অধিক পুরনো ছিল ৯৬১টি এবং ৫ বছরের অধিক পুরনো ছিল ১ হাজার ২৫২টি। বর্তমানে এখানে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ১৮ হাজার ৫০০টি।

সূত্রে আরও জানা যায়, পূর্বে মামলা নিস্পত্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ছিল স্বাক্ষী হাজির না হওয়া এবং স্বাক্ষ্যগ্রহণে বিলম্ব। কিন্তু বর্তমানে স্বাক্ষীর জন্য যথাযথভাবে প্রসেস বা নোটিশ করায় এ হার অনেক বেড়েছে। উল্লেখিত সময়ের মাঝে সবগুলো বিচারিক আদালত রেকর্ড সংখ্যক ১২ হাজার ৩৯ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে।

মামলার জব্দকৃত অপ্রয়োজনীয় আলামতও এ সময় ধ্বংস করা হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। বিচারকদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয় ৪ হাজার ৯২৫ কেজি গাঁজা, ৯ হাজার ২২০ লিটার চোলাই মদ, ২৬৯ বোতল ফেন্সিডিল ও ৩৫৬ বোতল বিদেশী মদ। বিক্রয়যোগ্য আলামত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারী কোষাগারে জমা করা হয়েছে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৪৩৯ টাকা। এই সময়ে নিস্পত্তিকৃত মামলার নথি ধ্বংস করা হয়েছে ১ হাজার ১শ। ১৭ সেপ্টেম্বর ধ্বংস করা হয়েছে আরও ১ হাজার ৮২৩টি নথি।

মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের জে এম শাখার দায়িত্বশীলরা জানান, আরও ৭ হাজার নথি ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান মুখ্য বিচারিক হাকিম তানিয়া কামাল নিয়মিত মাসিক পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স আয়োজন করছেন এবং বিভিন্ন থানাও পরিদর্শনেও যান।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পীরেরগাঁও গ্রামের ছায়া আক্তার নামে এক মামলার বাদী জানান, তিনি দিনের পর দিন আদালতে এসে মামলার স্বাক্ষী সম্পন্ন করার চেষ্টা করলেও শুধু তারিখ পড়ে যেত। কিন্তু পাঁচ বছরের চেষ্টায় যে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেননি তা পাঁচ মাসেই এখন শেষ হয়েছে। এতে করে আর আমাকে আদালতে দৌড়াতে হবে না।

হবিগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ সভাপতি এডভোকেট আবুল খায়ের বলেন, আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে মানুষকে অনেক ভোগান্তি থেকে রেহাই দেয়া সম্ভব।

হবিগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী ও সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন বলেন, কেউ চাইলেই মামলা জট কমাতে পারবে না। এখানে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। কিন্তু মুখ্য বিচারিক হাকিম তানিয়া কামাল সবকিছু সমন্বয় করে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে যেভাবে মামলার জট কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট নুরুজ্জামান বলেন, অল্প সময়ে এত মামলা নিস্পত্তি করায় অনেকের ধারনা হতে পারে এখানে যথাযথ বিচার না করেই মামলা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তা সঠিক নয়। আন্তরিকভাবে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কমেছে মামলা।

হবিগঞ্জের তরুণ আইনজীবী ও জেলা পরিষদ সদস্য এডভোকেট সুলতান মাহমুদ বলেন, সরকার জনগনের জন্য দ্রুত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার তা বাস্তবায়নে এই কার্যক্রম উদাহরন সৃষ্টি করবে বলে আমি মনে করি।

আদালত সূত্র জানায়, বর্তমানে হবিগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯টি বিচারকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৮জন। এর মাঝে মুখ্য বিচারিক হাকিমকে বিচারের বাহিরেও ব্যস্থ থাকতে হয় প্রশাসনিকসহ অন্যান্য কাজে। আর একজন বিচারক আছেন আজমিরীগঞ্জ চৌকি আদালতে। তার আদালতে মাত্র ১১৪টি মামলা পেন্ডিং আছে। কিন্তু চৌকি আদালতের বিচারক এর অন্য কাজের সুযোগ না থাকায় তার পক্ষে মামলা নিস্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। বিচার সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেন, বর্তমানে থানা ভিত্তিক আদালত গঠন ও বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু থানা ভিত্তিক না করে যদি মামলা ভিত্তিক বিচারক নিয়োগ করা হত তাহলে আরও বেশি মামলা নিস্পত্তি করা সম্ভব হত এবং জনগনও আরও দ্রুত বিচার পেত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা