kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

চবিতে ব্যক্তি-এজেন্ডা নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীর অনশন!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চবিতে ব্যক্তি-এজেন্ডা নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীর অনশন!

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মাইদুল ইসলামের দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে পুঁজি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ইফতেখার উদ্দিন আয়াজ ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নে অনশন করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু চত্বরে তিনি এই অনশন করেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি এসে তাঁকে অনশনস্থল থেকে নিয়ে যায়। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতারা অনশনের বিষয়টি দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নে আয়াজ অনশন করেছেন। এর কোনো ভিত্তি নেই। এমনকি অনশনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিনি অবহিত করেননি। এর আগে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ এনে মাইদুলের বিরুদ্ধে করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলার বাদী তিনি।

অনশনকারী আয়াজের দাবি—কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া মামলার আসামি সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামের পক্ষাবলম্বনকারী দুজন শিক্ষককে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের এ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে। তাঁরা হলেন সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক হানিফ মিয়া ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রহমান নাসির উদ্দিন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হানিফ মিয়াকে চবির সহকারী প্রক্টর ও রাহমান নাসির উদ্দিনকে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। 

এ বিষয়ে হানিফ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষক মাইদুলের সঙ্গে একসময় ভালো সম্পর্ক ছিল। যখন বুঝতে পেরেছি কোটা সংস্কার আন্দোলনে তাঁর অবস্থান সরকারবিরোধী, তখন সরে এসেছি। আর সে সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আমার যে অবস্থান ছিল সেটা তারাই তুলে ধরেছে। মাইদুলের স্ত্রীর তখনকার ফেসবুক স্ট্যাটাসই তার প্রমাণ।’ 

ড. রহমান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অনশনকারীর উল্লিখিত বিষয়টি ভিত্তিহীন। কোনো সময়ই মাইদুল ইসলামের সঙ্গে ছিলাম না। আর প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির বিষয়ে আমার সমর্থন থাকার প্রশ্নই আসে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাপে ফেলতে মূলত এ ধরনের কাজ করা হচ্ছে।’  

ওই মামলার একজন সাক্ষী শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপসাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক ইমাম উদ্দীন ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষীদের অনশনে বসার বিষয়ে জানানো হয়নি। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এই অনশন। 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইফতেখার আয়াজের দাবিগুলো আমাদের জানানোর পর প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু অনশনের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। এটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, ‘আয়াজের সঙ্গে কথা বলেছি। সে আর অনশনে বসবে না। সে কাল (আজ বৃহস্পতিবার) আমাদের একটা লিখিত অভিযোগ দেবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তি নেই। আর গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমার কাছে তথ্য এসেছে যে তিন ব্যক্তির প্ররোচনায় সে (আয়াজ) এই কাজ করেছে। যাঁদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁরা সবাই আওয়ামীপন্থী শিক্ষক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা