kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

নেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কার্যক্রম ব্যাহত

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কার্যক্রম ব্যাহত

যশোরের চৌগাছার ২ নম্বর পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের ভবন আজো নির্মিত হয়নি। ফলে প্রস্তাবিত জমিতে টিনশেড দিয়ে কোনোরকম চলছে পরিষদের কার্যক্রম। এই অবস্থায় ইউনিয়নে স্থানীয় সরকারের বহুবিধ কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন পরিষদের জমিসংক্রান্ত মামলার জটিলতার কারণে ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে আইনগত জটিলতা নিরসনপূর্বক বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত পরিষদের ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নবাসীসহ সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার প্রাণকেন্দ্র থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ২ নম্বর পাশাপোল ইউনিয়নের অবস্থান। পাশাপোল ইউনিয়নটি ঝিকরগাছা থানার অন্তর্গত ছিল। ৩৩টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই ইউনিয়নের তখন নাম ছিল ফুল পাশাপোল ইউনিয়ন।

১৯৭৭ সালে চৌগাছা থানা গঠনের পর ইউনিয়নকে ভেঙে দুটি ইউনিয়ন করা হয়। তা হলো ১ নম্বর ফুলসারা ও ২ নম্বর পাশাপোল ইউনিয়ন। বর্তমানে পাশাপোল ইউনিয়ন ১৭টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। 

স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণ নিয়ে দেড় যুগ ধরে মামলার কারণে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপোল ইউনিয়ন অনেক পুরাতন ইউনিয়ন হলেও এখানে কোনো ইউনিয়নের ভবন তৈরি হয়নি। তৎকালীন নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণ তাদের বৈঠকখানায় পরিষদের কার্যক্রম চালাতেন।

তারা আরো বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম খাইরুজ্জামান ঝিকরগাছা থানার অধীন থাকা অবস্থায় ইউনিয়নের ৩৩টি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থান নির্ণয় করেন বাড়িয়ালী গ্রামকে। এই গ্রামে সরকারি ক্লিনিকের একটি কক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পাশাপোল ইউনিয়ন বিভক্ত ও চৌগাছা থানা গঠন হবার পর মধ্যবর্তী ওই স্থানের গুরুত্ব কমে যায়। পরবর্তীতে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের সহযোগিতায় দশপাখিয়া বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন ভবনের জন্য একটি স্থানের নাম প্রস্তাব করা হয়। একই সাথে সেখানে টিনশেড দিয়ে একটি কক্ষ তৈরি করে চালানো হয় কার্যক্রম। পরবর্তীতে পরিষদের ভবন নির্মাণের কথা বিবেচনা করে এলাকার সাত/আটজন ৬৬ শতক জমি দান করেন। 

সাবেক ইউপি সচিব রফিউদ্দন বলেন, যেখানে জমি দান করা হয়েছে, সেখানে পরিষদের ভবন নির্মাণ হলে ইউনিয়নবাসীর সুবিধা হবে। কেননা পাশাপোল মৌজায় প্রস্তাবিত ওই জমির পাশে দশপাখিয়া বাজার বিদ্যমান। পাশেই রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি, ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা অফিস, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাইমারি স্কুল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়।

ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমি দানের পর ওই জমিতে কবরস্থান আছে দাবি করে বাড়িয়ালী গ্রামের সহিউদ্দীন বাদী হয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা ঠুকে দেন। ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের বিষয়ে সাবেক ইউএনও ও জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রস্তাবিত স্থানকে সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠান। কিন্তু বাধ সাধে ওই মামলা। এরপর ২০১৩ সালে প্রস্তাবিত জমির পক্ষে রায় দেওয়া হয়। ফলে ভবন নির্মাণে আর বাধা থাকে না। 

তারপরও এই রায়ের বিপক্ষে বাদী আপিল করলে আদালত এবার বাদীর অনুকূলে রায় প্রদান করেন। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের পক্ষে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ ও পূর্বের অনুকূলে রায় বহাল রাখতে আমরা হাইকোর্টে আপিল করি। 

তিনি বলেন, আমরা আদালতের দিকে চেয়ে আছি। তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে ইউনিয়ন পরিষদের ভবন না থাকলে কার্যক্রম চালানো যায় না। আমরা প্রস্তাবিত স্থানে টিনশেডের ভেতর কোনোরকমভাবে পরিষদের কাজ চালাচ্ছি। এখানে সার্বিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের ভবন দরকার। আদালতে মামলা ও আইনগত কিছু সমস্যার কারণে পরিষদের ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সমস্যাগুলো যাতে দ্রুত সমাধান হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা