kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ

গফরগাঁওয়ে লাল-সবুজের বিদ্যালয়ে রাস্তার উদ্যোগ

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গফরগাঁওয়ে লাল-সবুজের বিদ্যালয়ে রাস্তার উদ্যোগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে লাল সবুজের রঙে রাঙানো পাল্টিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাদাপানিতে মাখামাখি করে যাওয়া-আসা করা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল হকের নির্দেশে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে রাস্তার ব্যাপারে কথা বলেছেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সালমা আক্তার, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, পরিচালনা কমিটির সভাপতি সবুজ মিয়া প্রমুখ। 

গত ৩১ জুলাই কালের কণ্ঠে ‘লাল-সবুজের বিদ্যালয়ে কাদাপানিতে লুটোপুটি’ শীর্ষক একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের নজরে আসে। পরে তিনি বিদ্যালয়টির খোঁজ নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। 

পরিদর্শনকালে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের পিছনের কাদাপানির রাস্তাটুকুতে মাটি ফেলে সাময়িকভাবে চলাচল উপযোগী করার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আগামী শুকনো মৌসুমে স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির পরামর্শ দেন। 

উল্লেখ্য, উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের পাল্টিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলাচলের রাস্তা না থাকায় প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এক হাতে জুতা অন্য হাতে স্কুল ব্যাগ, হাঁটু সমান দেবে যাওয়া কাদাপানিতে লুটোপুটি করে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের পাশের বিলপাড় পর্যন্ত এসে শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে থাকে। পরে শিক্ষক বা বড় কেউ এলে দয়া করে কাদাপানির পথটুকু পার করে দেন। তবে বৃষ্টি হলে বিলপাড়টুকুও নিরাপদ থাকে না। প্রায়ই পা পিছলে শিশুরা বিলের পানিতে পড়ার ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, ১৯৭৩ সালে মুছলেম উদ্দিন ও জাহারুল আলম নামে দুই ব্যক্তি ৬২ শতাংশ জমি দান করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাতা দুইজনসহ বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক পাঠদান করছেন। শিক্ষার্থী মোট ১০৬ জন। এর মধ্যে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৮ জন। পাল্টিপাড়া ও কান্দাপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। তবে বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তা না থাকায় আশপাশের বহু শিক্ষার্থী দূরে অন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলে যায়।

বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে বিশাল হরি বিল। পূর্ব পাশে ধলাই মুড়ি বিল। কোনো রাস্তা নেই। শিক্ষার্থীরা ক্ষেতের আলপথ দিয়ে বিল পাড়ে উঠে। পরে বিলপাড় থেকে কাদাপানি ভেঙে বিদ্যালয়ে ঢুকে। তবে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে কান্দাপাড়া মোড় থেকে সোনামিয়ার বাজার পর্যন্ত অনুমোদনহীন অপ্রশন্ত পায়ে চলা একটি পথ ছিল। কিন্তু অনুমোদন না থাকায় পাশের জমির মালিকরা একটু একটু করে কেটে ফেলায় এখন রাস্তাটি অত্যন্ত সরু আলপথে পরিণত হয়েছে। তবে তেতুলিয়া-মাইজবাড়ি পাকা সড়ক থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত ৫০০ গজের একটি সংযোগ সড়ক হলে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হতো। এতে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী কয়েকগুন বৃদ্ধি পেত।

প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, রাস্তা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে। কালের কণ্ঠের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর রাস্তার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সালমা আক্তার বলেন, পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এমপি স্যারের সাথে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়ের পিছনের কাদাপানির রাস্তাটুকু মাটি ফেলে চলাচল উপযোগী করার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করতে এমপি স্যারের ডিও লেটারসহ প্রকল্প প্রস্তাবনা জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর মাধ্যমে প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল হক বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী স্যারের নির্দেশ পেয়ে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদকে সরেজমিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা