kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকায় তিস্তা নদীর খালে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলাচল করছে পথচারীরা। প্রায় তিন বছর আগে নির্মাণ কাজ শুরু করলেও এখনো ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। বৃটিশ আমলের তৈরি পূর্বের সেতুটি কয়েক বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সেটাই এখন হাজারো মানুষের ভরসা। আর সেতুটির নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্ব পার্শ্ববর্তী পীরগাছা উপজেলা প্রকৌশল অফিস পাওয়ায় গতি ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পীরগাছা প্রকৌশল অফিসের তথ্য মতে, ২০১৭ সালে তিস্তার খালের ওপর পুরনো সেতুর ২০০ মিটার দক্ষিণে নির্মাণ কাজ শুরু করেন মেসার্স হোসেন এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৮৫ মিটার সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। শুরু থেকেই অনিয়মিতভাবে নির্মাণ কাজ করার অভিযোগ ওঠে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে পুরোদমে কাজ আরম্ভ করলেও এখন ধীরগতিতে চলছে। টেন্ডারে সেতুর নির্মাণ কাজের সময় দেড় বছর বেঁধে দেওয়া থাকলেও প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বৃটিশ আমলে নির্মাণ হওয়া ৫০ মিটারের পুরনো সেতুটি চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সেতুর রেলিং ও গার্ডার ধ্বসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় সেতুটি ধসে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

অপরদিকে সেতু নির্মাণে ধীরগতি থাকলেও বাইপাস সেতু না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলাচল করছে হাজারো মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে উপজেলায় আসা মানুষগুলো সময় বাঁচাতে এই পথে আসেন। আর শনি ও বুধবার সাপ্তাহিক মীরগঞ্জ হাটে মানুষ ও যানবাহন চলাচল কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। ব্যবসায়ীক মালামালসহ ভারী যানবাহন চলাচল করে সেতুটি দিয়ে। সেতুর বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য ভাঙাচোরা থাকায় দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ে জনসাধারণ। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সেতুর ভাঙা স্থানে অসাবধানতায় ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। স্থানীয় ও পথচারীদের দাবি বাইপাস সেতুসহ দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার।

রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, দীর্ঘদিন  থেকে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে চলাচল করছি।

আমিনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, অনেক দিন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়ে ভয়ে ভয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় ভাঙা জায়গায় গাড়ি আটকে যানজট তৈরি হয়। তখন স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।

পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, সেতুটি এখন ভয়ানক অবস্থায় রূপ নিয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। তবে বাইপাস সেতু নির্মাণ করার জন্য এলজিইডিকে অনুরোধ করেছি। 

পীরগাছা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, সেতুটির কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পারব।

নির্মাণ কাজে ধীরগতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা দ্রুত গতিতে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। আর বাইপাস সেতু নির্মাণের জন্য ঢাকায় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা