kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

অর্থাভাবে সাপাহার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৫২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অর্থাভাবে সাপাহার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে

নওগাঁর সাপাহারে প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানো সাপাহার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি অর্থাভাবে এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

জানা গেছে, মো. লুৎফর রহমান নামে এলাকার এক শিক্ষিত বেকার যুবক এক সময় উপজেলা সদরে একটি কোচিং সেন্টার খুলে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের লোখাপড়া শেখাতেন। ২০১৭ সালের দিকে ওই যুবক উপজেলার অবহেলিত প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন। এরপর তিনি সদরে অবস্থিত তার কোচিং সেন্টারে কোচিং ছেড়ে ভাড়া বাসায় একটি বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। এরপর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এগিয়ে আসেন। বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের খুঁজতে থাকেন তিনি। স্বল্প সময়ে বিদ্যালয়টি সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নজরে আসে।

শুরু থেকে বিদ্যালয়টির শিক্ষক শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা নিজ উদ্যোগে প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে চাঁদা দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছেন। এমন কি তারা তাদের দেওয়া চাঁদার টাকা ও সমাজের বিভিন্ন লোকের দেওয়া আর্থিক সহযোগিতা হতে প্রতিদিন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিনেরও ব্যবস্থা করেন। এরপর প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার সমস্যা হলে সাপাহার সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আকবর আলী ও তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুল আলম শাহ্ চৌধুরীর উদ্যোগে পরিষদ হতে তিনটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান অনুদান দেন। এতে ছেলেমেয়েদের আসা যাওয়ার সমস্যা দূর হয়।

কিছুদিন আগে বিদ্যালয়টি সেই ভাড়াস্থ বাসা ছেড়ে আলহাজ্ব শামসুল আলম শাহ চৌধুরীর উদ্যোগে উপজেলা সদরের মহিলা কলেজ রোডে অবস্থিত মহবুব উজ্জামান পাবলিক গ্রন্থাগারে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের আর বাসা ভাড়ার টাকা গুণতে হয় না। কিন্তু দুঃখের বিষয় ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকমণ্ডলী ভবিষ্যতে বেতন-ভাতাদির আশায় এখন বিনাবেতনে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ দিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে বিদ্যালয়ের ভ্যানগাড়িগুলি বিকল হওয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। সাংঘাতিক অর্থাভাবে তারা বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় বিদ্যালয় নির্মাণ ও বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী ভ্যানগুলি সারাতে পারছে না।

বর্তমানে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি চরম অর্থ সংকটে পড়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। উপজেলার প্রতিবন্দ্বী ছেলেমেয়েদের অভিভাবক ও বিনাবেতনে পাঠদানকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীমণ্ডলী সমাজের অবহেলিতে ও অসহায় প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে দেশের কাজে লাগানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সরকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা