kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

মায়ের সঙ্গে এক বছরের শিশুর কারাবাস

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মায়ের সঙ্গে এক বছরের শিশুর কারাবাস

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রেমচরণজোত সীমান্তের লিটন মিয়ার স্ত্রী ঝর্ণা বেগমকে সোমবার দুপুরে পিস্তলসহ (ওয়ান সুটার গান) গ্রেপ্তার করে পঞ্চগড় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন। ঝর্ণার সাথে তার এক বছরের মেয়ে মাসুমা আক্তারকেও নিয়ে যায় তারা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান লিটন মিয়া ও তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগমকে আসামি করে তেঁতুলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ঝর্ণাকে তার শিশু সন্তানসহ মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। আসামি না হয়েও মায়ের সাথে কারাবাসে থাকতে হবে শিশু মাসুমাকেও। যতদিন না তার মায়ের জামিন হচ্ছে ততদিন কারাগারের মধ্যে কাটাতে হবে শিশুটিকে। 

এদিকে ঝর্ণার পরিবার দাবি করেছে মাদক ধরতে এসে মাদক না পেয়ে লিটনের স্ত্রী ঝর্ণাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এই অভিযোগে তারা জেলা প্রশাসক ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। 

ঝর্ণাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করায় তার ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তার পরিবার। তার তিনটি মেয়ে সন্তান। তিন জনই ছোট। বড় মেয়ে লামিয়া আক্তারের বয়স সাত বছর, তার ছোট লাবিবা আক্তারের বয়স চার বছর আর সবার ছোট মাসুমা আক্তারের বয়স এক বছর। ছোট মেয়ে মাসুমাকে সাথে নিয়ে যেতে পারলেও বাকি দুজনকে রেখে যেতে হয়েছে। মায়ের খোঁজে প্রতিনিয়ত কান্না করছে অবুঝ শিশু দুটি। 

ঝর্ণার স্বামী লিটন মিয়া বলেন, আমি যদি কোন অপরাধ করে থাকি। আমার কাছে যদি তারা কোন মাদক পেতো তাহলে আমাকে নিয়ে যেতো। কিন্তু মাদক ধরতে এসে মাদক না পেয়ে তারা আমার নিরাপরাধ স্ত্রীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। বিনা দোষে আমার ছোট মেয়েটিকেও জেল থাকতে হবে। বড় দুটি মেয়ে সব সময় মায়ের জন্য কান্না করছে। বিনা দোষে কেন পরিবারের ওপর এমন নির্যাতন করা হচ্ছে। কোন দোষে আমার সন্তানদের এই শাস্তি দেয়া হচ্ছে। আমি নিরপেক্ষ তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

লিটনের বড় ভাই মানিক মিয়া বলেন, লিটন এক সময় নেশা করতো। এখন যদি তার কাছে নেশা পেতো তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করলে আমাদের কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু তার স্ত্রীকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো। তারা বলছে তার কাছে অস্ত্র পাওয়া গেছে। একটা গৃহবধূর কাছে এমন অস্ত্র থাকবে এটা কেও বিশ্বাস করতে পারে। মূলত তারা মাদক ধরতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে তারাই পিস্তল দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তারা যেন সুষ্ঠু তদন্ত করে কারা দোষি তা খুঁজে বের করে। 

পঞ্চগড় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শন আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা মাদকের অভিযানে গিয়ে তল্লাশী করে ঝর্ণা কোমড়ে পিস্তল (ওয়ান সুটার গান) পাই। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। আমরা লিটন ও তার স্ত্রী ঝর্ণার নামে অস্ত্র আইনে মামলা করেছি।  তার মেয়ে মাসুমার বয়স এক বছর হওয়ায় তার মায়ের হেজাফতে তাকে রাখা হয়। মামলার এজাহারে আমরা তাই উল্লেখ করেছি। 

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রসহ ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন আমাদের কাছে সোপর্দ করে। ওই নারীর সাথে তার শিশু সন্তানকেও তারা নিয়ে এসেছেন। ছোট শিশু মা ছাড়া থাকতে পারবে না তাই তাকে মায়ের হেফজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি অমানবিক হলেও কিছুই করার নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা