kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

হুমায়ূন কবির শাহ সুমন, কর্ণফুলী   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ১৫ নম্বর ফেরিঘাটের এ জেটি দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশযাত্রীসহ কয়েক হাজার মানুষকে পারাপার করতে হচ্ছে প্রতিদিন। একটি ছোট জেটির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয় শহর থেকে আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলার বাসিন্দা ও কর্মজীবীদের। এ ছাড়াও প্রতিদিনের নদী পারাপারের অন্যতম যোগাযোগের মাধ্যম এ ফেরিঘাটে হয়রানির শিকার বিদেশগামী যাত্রীরা। ঘাটটি ইজারা দিয়ে আসছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ঘাটের এসব অনিয়ম চিত্র দেখেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেউ। 

এ ঘাট দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, পটিয়াসহ কয়েকটি উপজেলার বিদেশযাত্রী, হজযাত্রী, পশ্চিম অঞ্চলের শহরমুখী মানুষসহ মেরিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, কাফকো, সিইউএফএল, কোরিয়ান কেইপিজেড, কর্ণফুলী টানেল ও বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার চাকরিজীবী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দক্ষিণ পাড়ের ছোট একটি জেটি দিয়ে নৌকা করে নদী পারাপার করতে হয়। এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে। ঘাট পারাপারে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, দেওয়া হয় না লাইফ জ্যাকেট। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তারপরও যানজট এড়াতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে মানুষ।

এ ঘাট দিয়ে শহর ও চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে যাওয়ার সহজপথ হিসেবে নৌকা দিয়ে নদী পারাপার করে যাওয়া আসা করে বিভিন্ন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। বিদেশযাত্রী, স্কুল, কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য চাকরির প্রয়োজনে আশপাশের মানুষের ভরসা ১৫ নম্বর ফেরিঘাটটি। প্রতিদিন নৌকাযোগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীরা পারাপার করে থাকে। বাসাভাড়া কম হওয়ায় শিল্পকারখানার অনেক শ্রমিক নদী পার হয়ে এই এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। অনেক সময় দেখা যায়, একেকটি নৌকার ধারনক্ষমতা ২০ জন হলেও প্রায় সময় পারাপার করে ৬০-৭০ জনের বেশি। আবার অনেক সময় দেখা যায় রাত ৯টার পর থেকে বাড়তি ভাড়া দিয়ে পার হতে হয় যাত্রীদের। এ অবস্থায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে বিদেশযাত্রী ও সাধারণ মানুষকে।

বিদেশযাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, বিদেশ যাওয়ার সময় নৌকা রিজার্ভ করে বাড়তি ভাড়া দিয়ে পার হতে হয় আমাদের। অনেক সময় লোকাল নৌকা করে পার হতে গেলে ঘাটের মাঝিরা মালামাল ও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে হয়রানি করে এতে করে অনেক সময় বিমানবন্দরে ঠিক সময়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে হরহামেশা নৌকাডুবিসহ ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটছে।

ঘাটের বিষয়ে জানতে চাইলে নদীর দক্ষিণ পাড়ের আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, এখনো পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা