kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

আবারো আলোচনার কেন্দ্রে বশেমুরবিপ্রবি

প্রসূন মন্ডল, গোপালগঞ্জ   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবারো আলোচনার কেন্দ্রে বশেমুরবিপ্রবি

নানা কারণে আবারো গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সর্বসম্প্রতি আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ডেইলি সান এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফাতেফা-তুজ-জিনিয়াকে এক সেমিস্টারের জন্য একাডেমি সাময়িক বহিষ্কার করাকে কেন্দ্র করে আবারো আলোচনায় আসে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। শুধু তাই নয়, ওই শিক্ষার্থীর একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সিনিয়র ভাই ও শুভসংঘের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি শামস জেবিনকে গত সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসের ভেতর একদল শিক্ষার্থী মারপিট করে আহত করে। এই মারপিটের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভিন্ন কথা জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভিসির কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন প্রেস ব্রিফিং এ বলেন, সুর্নির্দিষ্ট কারণেই জিনিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে ভিসি বলেন, ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইট হ্যাক করে পরীক্ষা বানচালের চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তা ছাড়া ওই শিক্ষার্থী অনবরত তার ফেসবুকে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন মন্তব্য করে আসছিল। আমারসহ অন্য শিক্ষকদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছে ওই শিক্ষার্থী। এসব কারণেই তাকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো সাংবাদিককে সাময়িক বরখাস্ত করেননি। তারা একজন দোষী শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দিয়েছেন। আর এ নিয়ে ওই শিক্ষার্থী আমার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একের পর এক মিথ্যাচার করে চলেছে।

তিনি সারা দেশের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে বলেন, এখানে কোনো সেশনজট নেই। দেশের সেরা শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অল্প কিছু শিক্ষার্থী যদি বিপথে যায় বা অন্যায় করে তাদেরকে শাসন করার অধিকার অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আছে। তা নাহলে বিশ্ববিদ্যালয় চালানোই দায় হয়ে যাবে। তবে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলেও তাদেরকে সংশোধন হবার সুযোগ দিয়ে আবারও শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের জন্য ডিপিপিতে আড়াই কোটি টাকা ও শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য অর্ধকোটি টাকা ধরা হয়েছিল। এখন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এই কমপ্লেক্সের মধ্যে শহীদ মিনারও থাকবে। আর এ জন্য আরডিপিপিতে ১৮.৬২ কোটি ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজাইন, ডিজিটাল সার্ভে ও সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হবে অত্যাধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও দর্শনীয়।

এ সময় প্রক্টর মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম হীরা, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলমসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও 'দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ' এর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি এবং শুভসংঘের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি শামস জেবিন এর সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, সোমবার বেলা ১২টায় মিড টার্ম পরীক্ষা দিতে গেলে আমাকে ক্লাসরুমের সামনে থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় বেশ কিছু লোক। এরপর এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে তারা। এ সময় তারা বলে, 'ভিসি তোকে নিয়ে যেতে বলছে, তোকে নিয়ে যেতে হবে'। মারপিটে আমি গুরুতর আহত হলে আমাকে সেখানে ফেলে রেখে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। পরে অন্য ছাত্ররা আমাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে পরে আমি খুলনায় বাসায় চলে আসি। তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা করায় এবং ফাতমা-তুজ-জিনিয়ার পাশে থাকায় আমাকে হামলার শিকার হতে হয়েছে।

মারধরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছে ওই শিক্ষার্থী। অভিযোগের ভিত্তিতে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আব্দুর রহিম খানকে প্রধান করে চার সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা