kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:১৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

৭ম শ্রেণির ছাত্রীদের গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করার অপরাধে শিক্ষকের শাস্তি দাবি করে পাকশী-পাবনা বগামিয়া সড়কে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। উত্তাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশি সহযোগিতা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলামকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

সোমবার দুপুরে পাবনা ঈশ্বরদীর আওতাপাড়া আবু বকর সিদ্দিকী (এবি সিদ্দিকী) সিনিয়র মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটে।

মাদরাসার ৭ম শ্রেণির দুই ছাত্রী অভিযোগ করে জানায়, সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসে এসে নিজের চেয়ারে না বসে মেয়েদের বেঞ্চে বসেন। নানা অযুহাতে মেয়েদের গায়ে হাত দেন। অশ্লীল কথাবার্তা বলেন। বিষয়টি মাদরাসার অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটিকে বলেও লাভ হয়নি।

তারা অভিযোগ করে আরো জানায়, গতকালও শিক্ষক রবিউল একই ধরণের আচরণ করেন। তাই প্রতিবাদ ও শিক্ষক রবিউল ইসলামের শাস্তির দাবিতে তারা রাস্তায় নেমেছেন।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক রতন সরদার ও আওয়ামী লীগ নেতা রাজা অভিযোগ করে জানান, মাদরাসায় মেয়েদের পাঠিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক রবিউল ইসলাম মেয়েদের গায়ে হাত দিয়ে অশ্লীল কথাবার্তা বলে শ্লীলতাহানি করে আসছেন। শিক্ষকের এরুপ অনৈতিক কার্যকলাপে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে বাধ্য হয়েছে। তাদের সঙ্গে অভিভাবক ও এলাকাবাসী একাত্মতা জানিয়ে শাস্তির দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন।

তারা আরো জানান, রবিউল ইসলাম স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসা সুপারের নিকট মেয়েদের শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করতে বাধ্য হয়েছি। 

আওতাপাড়া এবি সিদ্দিকী সিনিয়র মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রোকনূর ইসলাম জানান, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের অবগত করা হয়।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান রিপন জানান, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিকট থেকে জানতে পেরে সোমবার দুপুরে পরিচালনা কমিটির সভা ডেকে অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলামকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার জানান, অভিযোগটি তিনি শুনেছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা