kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

বামনডাঙ্গা-নলডাঙ্গা সড়ক

সুন্দরগঞ্জে দেড় বছরেও শেষ হয়নি রাস্তার কাজ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুন্দরগঞ্জে দেড় বছরেও শেষ হয়নি রাস্তার কাজ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও পাঁচ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। এতে রাস্তার খোয়া ও বালু উঠে গিয়ে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এসব খানা-খন্দে বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনাসহ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের।

স্থানীয় প্রকৌশল অফিসের তথ্য মতে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বামনডাঙ্গা-নলডাঙ্গা পাঁচ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও দুই ধারে চার মিটার বর্ধিতকরণ বাবদ সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের টেন্ডার পায় মেসার্স মতলুব কনস্ট্রাকশন নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে রাস্তার কাজ আরেক ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেন ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এরপর কাজ শুরু করেন সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরু থেকেই সংস্কার কাজে ধীরগতি ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে সেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করাতে বাধ্য হয় ঠিকাদার। এরপর থেকে নানা অযুহাতে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে রাস্তার নির্মাণ কাজ নয় মাস সময় বেঁধে দেওয়া থাকলেও সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো রাস্তার কার্পেটিং শুরু করেনি। ফলে রাস্তার খোয়া ও বালু উঠে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সে সব খানা-খন্দে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়াও রাস্তায় হেলে দুলে গাড়ি চলাচল করায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারী যাত্রীদের। অন্যদিকে, ব্যস্ততম এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় প্রায় ৮ শতাধিক যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বিকল্প রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ করার।

এ ব্যাপারে সফিকুল নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন, রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ইটের টুকরো উঠে গিয়ে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আর এসব গর্তে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় অনেক দুর্ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়াও গাড়িতে রোগী থাকলে অনেক ধীর গতিতে চালাতে হয়।

সুমাইয়া আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, রাস্তায় পিচ না করায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। অটোতে ধীরে ধীরে গিয়ে সময় মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারি না। আর বিভিন্ন সময় বড় ট্রাকগুলো পানি জমে থাকা গর্তের ওপর যাওয়ায় ময়লা পানি শরীরে লেগে পোশাক নষ্ট হয়। তার দাবি দ্রুত রাস্তার কার্পেটিং শেষ করা হোক।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনছুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ঠিকাদার অসুস্থ থাকায় কাজ শুরু করতে পারেনি। তবে আমি আগামী সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করতে তাগিদ দিয়েছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা