kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

শার্শার বাগআচঁড়া রুবা ক্লিনিক

ভুল চিকিৎসা আর কর্তব্যে অবহেলায় ঝরছে তাজা প্রাণ

বেনাপোল প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভুল চিকিৎসা আর কর্তব্যে অবহেলায় ঝরছে তাজা প্রাণ

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ার সাত মাইল রুবা ক্লিনিক এখন যেন এক মৃত্যুপুরী। ভুল চিকিৎসা, ডাক্তারের অবহেলাসহ নানাবিধ কারণে এই ক্লিনিক এখন এক আতঙ্কের নাম। রোগী ভর্তি হলেই স্বজনরা চিকিৎসকের খামখেয়ালিপনার জন্য সর্বদা চিন্তিত থাকেন। কখন না জানি 'আই অ্যাম সরি' বলে ডাক্তার দায় এড়িয়ে যান।

তাছাড়া এখানে ডাক্তারের সাথে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাদের রয়েছে দহরম-মহরম। যার প্রভাবে ক্লিনিকের ডাক্তার আহসান হাবীব রানা নিজেকে বিশাল ক্ষমতাধর মনে করে প্রতিবারে তার অপরাধকে অস্বীকার করে থেকে যান ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

গত দুই মাস আগে এক প্রসূতি মায়ের ভুল চিকিৎসা দিয়ে অবশেষে মেরেই ফেলেন তিনি। সেবারও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় সে যাত্রায় রক্ষা পেয়ে যান তিনি। সাংবাদিকদেরকে তিনি যা খুশি করে নিতে বলেন।

আবারো তার চিকিৎসা অবহেলায় মোর্শেদা খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূর অকাল মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মোর্শেদা খাতুন শার্শা উপজেলার মহিষাকুড়া গ্রামের শিমুলের স্ত্রী। রবিবার সন্ধ্যার দিকে ওই ক্লিনিক থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসলে তিনি মারা যান।

স্থানীয় ও মোর্শেদার স্বামী শিমুল জানান, গত শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মোর্শেদা খাতুনের পেটে প্রচণ্ড ব্যাথা শুরু হয়। গ্রামের ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে রোগীর অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে বাগআঁচড়া সাতমাইল রুবা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক আহসান হাবীব রানা বিভিন্ন চিকিৎসা দিতে থাকেন। কিন্তু মোর্শেদা চিকিৎসা পেয়ে যেনো আরো যন্ত্রণায় কাবু হতে থাকে। রবিবার বিকেলে রোগী যখন প্রায় মৃত্যুশয্যায় তখন রুবা ক্লিনিকের চিকিৎসক দায় এড়ানোর জন্য স্বজনদের রোগীকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে বলেন।

রোগীর নিকট আত্মীয় প্রভাষক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আহসান হাবীব রানার অবহেলার কারণে রোগীকে বাঁচানো গেলো না। যদি তিনি ওখানে ভর্তি রেখে চিকিৎসা না দিয়েই অতি দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাতেন তাহলে হয়তো মোর্শেদার এই অকাল মৃত্যু আমাদের দেখা লাগতো না। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুবা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. আহসান হাবীব রানা বলেন, এই নামের রোগী একটা আসছিলো, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমি রেফার্ট করে দিয়েছি।

তবে এলাকাবাসী জানান, এর আগেও রুবা ক্লিনিকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ডাক্তারের অবহেলার কারণে অনেক রোগী মারা গেছে। গত ১৩ জুলাই কবিরুলের স্ত্রী হিরা (২২) নামের এক প্রসূতি মায়ের  প্রসব বেদনা উঠলে তার স্বজনেরা রুবা ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর চিকিৎসক রানা জানান, এখনও সময় হয়নি। নরমাল ডেলিভারি হবে, অপেক্ষা করুন, ধৈর্য ধরুন।

এর মধ্যে প্রসব বেদনা কমে যায়। এরপর ১৪ জুলাই রাত থেকে রোগী আবার যখন ছটফট শুরু করে তখন ডা. রানা রোগীকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। পরদিন হিরা খাতুন মারা যান। এ সময় ডা. রানা তড়িঘড়ি করে উন্নত চিকিৎরার জন্য শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে বলেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানান অনেক আগেই মারা গেছে রোগী। সে সময় অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়া হয়।

এসব অব্যবস্থা অনিয়ম অস্বাস্থ্যকর ভুল ও অপচিকিৎসার বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ মোটা অংকের টাকা পেয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ওসি (তদন্ত) সুখদেব রায় জানান, কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা