kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

শেরপুরে আইসিটি মামলায় শিষ্যসহ কথিত ব্রহ্মচারী কারাগারে

শেরপুর প্রতিনিধি    

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেরপুরে আইসিটি মামলায় শিষ্যসহ কথিত ব্রহ্মচারী কারাগারে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেরপুর জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক চন্দন সাহা সম্পর্কে বিষেদগার ও কটুক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত কথিত যোগগুরু ব্রহ্মচারী শান্তানন্দকে এক শিষ্যসহ কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে সদর থানা পুলিশ ব্রহ্মচারী শান্তানন্দ ও তার শিষ্য গান-কবিতার দলের সদস্য এনামুল হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারিক হাকিম তাদের জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এর আগে রবিবার রাত ৯টার দিকে শহরের গোপালবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল-মামুন ব্রহ্মচারী শান্তানন্দ ও এনামুল হোসেনকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জেলা আ’লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সাহা তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে সোমবার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালত তাদের জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মচারী শান্তানন্দকে শেরপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগও রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিতরা তার কার্যকলাপের বিরোধিতা করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর কাছে অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রশাসনের নির্দেশে শেরপুর ত্যাগ করেন।

সূত্রগুলো জানান, ব্রহ্মচারী শান্তানন্দ চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার ভালো নাম প্রবীর চৌধুরী হলেও তিনি শান্তানন্দ নামে নিজেকে ব্রহ্মচারী দাবি করে ২০১৫ সালে শেরপুর শহরের রঘুনাথ বাজার এলাকার বিপি প্লাজার বিদ্যুৎ দামের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে সেখানে ‘শিব শক্তি মিশন’ নাম দিয়ে আশ্রম গড়ে তুলে নানা ধরনের কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিতরা তার বিরুদ্ধে বিতর্কিত কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে বিরোধিতা করতে থাকেন এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।

একপর্যায়ে ব্রহ্মচারী শান্তানন্দ প্রশাসনের নির্দেশে শেরপুর ত্যাগ করেন। কিন্তু কয়েকমাস পর তিনি বিপি প্লাজায় এসে ফের নানা রকমের কর্মকাণ্ড শুরু করলে তার বিরুদ্ধে বিপি প্লাজার মালিক তাদের বাড়ির তৃতীয় তলা দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে শান্তানন্দকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ ঘটনার পর ব্রহ্মচারী শান্তানন্দ প্রথমে নিউমার্কেট এলাকার অনিল কবিরাজের বাড়িতে অবস্থান নেন। পরে সেখান থেকেও বিতারিত হয়ে ২০১৬ সালে নয়আনী বাজার এলাকার পোদ্দার কমপ্লেক্সের চতুর্থতলার ছাদে আশ্রয় নেন।

সে সময় সেখানে ‘ক্রিয়াযোগ উপাসনালয়’ স্থাপন করে নানা বিতর্কিত কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিতরা তার বিরোধিতা করলে তিনি বক্তব্য-বিবৃতি এবং ফেসবুকে ব্রাহ্মণ ও ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেওয়া শুরু করেন। এসব ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এমনকি বাড়ির মালিক দিলীপ পোদ্দার উপসনালয়টি সরিয়ে নেওয়ার কথা বললে শান্তানন্দ ও তার ভক্তরা ক্ষুদ্ধ হন।

এনিয়ে পোদ্দার পরিবার ও শান্তানন্দ ভক্তদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত শুরু হলে মামলা-মোকদ্দমা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এর জের ধরে ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর শান্তানন্দ ব্রহ্মচারী এবং তার দুই শিষ্যকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করা হয়। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন। তারপর থেকে ব্রহ্মচারী শান্তানন্দ শেরপুর ত্যাগ করলেও মামলার হাজিরা দিতে তিনি ধার্য্য তারিখে শেরপুর আসেন।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা