kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

টেকনাফে চীনা প্রতিনিধি দল

স্বদেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের তিন দাবি

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ (কক্সবাজার)    

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বদেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের তিন দাবি

কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল। দলটি আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে টেকনাফের ২৬ নম্বর শালবাগান ও নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প দুটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা মিয়ানমার ফিরে যাওয়া বিষয়ে রোহিঙ্গাদের মতামত নেন।

টেকনাফের ২৬ নম্বার শিবিরের সিআইসি কার্যালয়ে রোহিঙ্গা নেতাদের মতামত গ্রহণকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের কাছে মিয়ানমার ফিরে যেতে তিনটি দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। দাবি গুলো হলো মিয়ানমারে নাগরিকত্ব, কেড়ে নেওয়া ভিটেমাটি ফেরত ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।

শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা আবুল ফয়েজ, গুরা মিয়া ও মো. জসীম রোহিঙ্গাদের পক্ষে এসব দাবি দেন। তারা জানান, দাবি পুরণ করলে স্ব-উদ্যোগে নিজ দেশে চলে যাবে।

বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে মিয়ানমারের পরিস্থিতি দেখতে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ পাঠালে যাবেন কিনা লি জিমিং-এর এমন প্রশ্নের জবাবে রোহিঙ্গারা যাবেন বলে সম্মতি দেয়। 

তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য দুটি পদ্ধতি বলেন, একটি হলো রোহিঙ্গাদের গ্রুপের জন্য জনপ্রতি দুটি মোবাইল সেট দেওয়া হবে। একটি নিজের, অন্যটি পরিবারের জন্য। যদি মিয়ানমারে পরিস্থিতি ভালো হয়, মোবাইলে পরিবারকে ভালো আছি বলে খবর দিয়ে নিয়ে যাবেন। আরেকটি পদ্ধতি হল, একটি গ্রুপ মিয়ানমারে গিয়ে অবস্থা দেখে চলে আসবেন। যদি সেখানের অবস্থা ভালো হয় পরিবার নিয়ে যেতে পারবেন।

এদিকে মতামত শেষে শালবন শিবিরের অশ্রিত রোহিঙ্গাদের তিনটি বাসায় যান। তাদের বাসা দেখেন, পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং কিছু স্কুল ব্যাগ ও খেলনা সামগ্রী তুলে দেন।

এর আগে সকাল ১০ টার দিকে চীনের রাষ্ট্রদূত টেকনাফের কেরুনতলী ট্রানজিট ঘাট পরির্দশন করেন। পরিদর্শন কালে প্রত্যাবাসন বিষয়ে লি জিমিং জানতে চাইলে জবাবে ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত) শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, প্রত্যাসনের জন্য বাংলাদেশে সব কিছু প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো মূহুর্তে প্রত্যাবাসন করা যাবে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত), নয়াপাড়া শরনাথী রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ (সিআইসি) আব্দুল হান্নান, জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালিদ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালিদ হোসেন বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল টেকনাফের কেরুনতলী ট্রানজিট ঘাট ও শালবাগান শিবিরের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন পাশাপাশি ওই শিবির পরিদর্শন করেন।

প্রসঙ্গত, চীনের প্রতিনিধি দল রবিবার সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেদিন নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু শুন্য রেখায় আটকা পরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সীমান্ত ঘুরে দেখেন।

গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রতিনিধিদল পাঠায় চীন। এ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় সেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।

২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা