kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

নবীনগরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিদায়ী এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মনির-জেপি

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি    

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবীনগরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিদায়ী এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির, সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেপি দেওয়ান ও ভূমি অফিসের নাজির মিহির ঘোষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগকে ‘কাল্পনিক, মনগড়া ও মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিদায়ী সহকারী কমিশনার।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি, খারিজ, রেকর্ড সংশোধন, খাস জমি বন্দোবস্ত, বাজারের ভিটি নবায়ণসহ বিভিন্ন কাজের জন্য আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেপি দেওয়ান ও তার অফিসের নাজির মিহির ঘোষ বিভিন্নভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের রেজিস্ট্রার ও এসএ ভলিউম বই বাঁধাইয়েও মোটা অংকের অর্থ আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ ওঠেছে বিদায়ী জেপি দেওয়ানের বিরুদ্ধে।

এদিকে সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের অধীনে অস্থায়ী ভিত্তিতে ‘মহিলা স্বেচ্ছাসেবী’ পদে ১৫ জনের নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, যোগ্য প্রার্থী থাকার পরও নিয়োগ কমিটির ‘প্রধান’ উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ওইসব নিয়োগ দেন।

নবীনগর ইউথ এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আশরাফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা এমন ব্যক্তিদের নামে এই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগের একটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অতিরিক্তি দায়িত্বে থাকা নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেপি দেওয়ান গত ১৪ আগস্ট এখান থেকে চলে গেছেন। আগামী ২১ আগস্ট সরকারি স্কলারশিপে উচ্চ শিক্ষা নিতে লন্ডন যাওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ভূমি অফিসের ঘটনা নিয়ে ডিসি স্যার এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন।’  

এ বিষয়ে নবীনগরের বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেপি দেওয়ান আজ দুপুরে মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসব চক্রান্তমূলক মিথ্যা মনগড়া অভিযোগ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কেউ এসব করাচ্ছে। আমার সময়ে কোনো কাজেই অনিয়ম, দুর্নীতি হয়নি। এটি আমার ওপেন চ্যালেঞ্জ।’

উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। মূলত অযোগ্য প্রার্থীদের পক্ষে কয়েকজন সাংবাদিকের ‘তদ্বির’ আমি রক্ষা করিনি। এই কারণে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এসব মিথ্য অভিযোগ করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা