kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

চান্দিনায় সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মৎস্য চাষ

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৪:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চান্দিনায় সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মৎস্য চাষ

কুমিল্লার চান্দিনায় সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা। উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির সভাপতি রওশন আলী ওই ইউনিয়নের নরসিংহপুর ব্রিজ থেকে বাড়েরা বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার খালে বাঁধ দিয়ে প্রায় এক বছর যাবৎ মৎস্য চাষ করে চলছেন। এতে প্রাকৃতিক মাছের বংশ বিস্তার হ্রাস পাচ্ছে। দেশীয় প্রজাতির মাছের অবাধ চলাচলে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে । অপরদিকে বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য খালে ভেসাল জালে (ভেল জাল) মাছ ধরা মৎস্য জীবিদের জালে মিলছে না কোনো মাছ। বর্ষার ভরা মৌসুমেও তারা মাছ শিকার করতে না পেরে উচিঁয়ে রেখেছেন তাদের জাল।

ওই খালের দুই পাশে নেট ও বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষকৃত মাছের সুরক্ষায় দেশীয় প্রজাতির কাঁটা জাতীয় ক্ষুদ্রাকৃতির মাছগুলো ধ্বংস করতে ছিটানো হচ্ছে নানা প্রকার ওষুধ। এতে বাড়েরা-নরসিংহপুর খালে প্রাকৃতিক মাছ বিলুপ্তির পথে। সরকারি খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষের এমন ঘটনা কেউ এর আগে দেখেনি বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, বাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রওশন আলী প্রায় ১১ বছর যাবৎ ওই ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। গত সপ্তাহে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নতুন কমিটি গঠন হওয়ায় তিনি সাবেক হন। প্রায় এক বছর যাবৎ তিনি খালের দুই পাশে বেড়া ও উপরে নেট দিয়ে মাছ চাষ করছেন। মাচা দিয়ে সকাল-বিকেল মাছের খাবার ছিটাচ্ছেন। মনে হচ্ছে যেন তার নিজস্ব মৎস্য প্রজেক্ট।

তারা আরও জানান, আগে খালের পানি সেচ করে আশপাশের জমিতে চাষাবাদ করা হতো। এখন ওই খালে কেউ পানি সেচ করতে পারে না।

এ ব্যাপারে বাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মৎস্য চাষী রওশন আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি বাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলম থেকে অনুমতি নিয়ে খালে মাছ চাষ করেছি।

তবে বাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলম জানান, খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের অনুমতি কোনো চেয়ারম্যান দিতে পারে না। আমি দিব কিভাবে? খালে বাঁধ দিয়ে যখন তিনি মাছ চাষ শুরু করেছেন তখন ওই খালে ভেল দিয়ে মাছ শিকারী কয়েকজন এসে বিষয়টি আমাকে জানান। তখন আমি ওনাকে নিষেধ করেছি। কিন্তু তিনি আমার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ চাষ করে চলছেন।

চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যে রওশন আলী চেয়ারম্যানের অনুমতির কথা থেকে সরে গিয়ে বলেন, খালে আমি বাঁধ দেইনি। নেট ও বাঁশ দিয়ে কিছু অংশে মাছ চাষ করেছি। কিন্তু খালের পানিতে মাছ হয় না। সব মাছ মরে যাচ্ছে। আর চাষ করব না।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) নাঈমা ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। সরেজমিন তদন্ত করে শীঘ্রই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা