kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

সুন্দরবনে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র ও দ্রুতগতির নৌযান চান জেলেরা

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুন্দরবনে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র ও দ্রুতগতির নৌযান চান জেলেরা

সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে শনিবার বিকেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জেলে সাহেব আলী ফকির (৪২)। শরণখোলা রেঞ্জ অফিস এবং লোকালয় থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে দুর্গম ছাপড়াখালীর চরে পাঁচ দিন আগে মাছ ধরতে যান তারা চারজন। তাদের নৌকায় কোনো ওষুধপত্রও ছিল না। গহীন বনে চিকিৎসারও কোনো ব্যবস্থা নেই। সেখান থেকে অসুস্থ ওই জেলেকে চিকিৎসার জন্য নৌকায় করে নিয়ে আসার পথেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্গম পথ নৌকা বেয়ে লাশ নিয়ে সঙ্গী জেলেদের আসতে সময় লেগে যায় একদিন। রবিবার দুপুর ১২ টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে পৌঁছানোর পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বনবিভাগ। নিহত জেলে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের হেমায়েত ফকিরের ছেলে।

নিহতের পরিবার, জেলে ও মহাজনরা অভিযোগ করে জানান, পেটের দায়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে জেলে ও অন্যান্য পেশাজীবীরা গহীন সুন্দরবনে যায়। সেখানে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমনকি বাঘ, কুমির ও বিষাক্ত সাপের ছোবলে পড়তে হয় তাদের। কিন্তু তাদের চিকিৎসার জন্য বনবিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থাই নেই। অথচ এই পেশাজীবীদের মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করছে। সুন্দরবনে ভ্রাম্যমান চিকিৎসা কেন্দ্র এবং রোগী বহনের দ্রুত গতিসম্পন্ন নৌযান থাকলে আজ সাহেব আলীর মরতে হতো না। সুন্দবন উপকূলের মানুষ ও পেশাজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে এমন দাবি করে আসলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। 

নিহত জেলের মহাজন মৎস্য ব্যবসায়ী মো. খলিল হাওলাদার জানান, শরণখোলা স্টেশন থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর পাস নিয়ে তার নৌকার চার জেলে বনের ছাপড়াখালী এলাকায় মাছ ধরতে যায়। চরে চরপাটা জাল পাতার সময় সাহেব আলী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় সঙ্গী জেলেরা দ্রুত তাকে নৌকায় তুলে বাড়িতে আনার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি সুন্দববনে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন ও রোগী বহনের দ্রুত গতির নৌযান দেওয়ার দাবি জানান।

বকুলতলা ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বর দেলোয়ার হোসেন খলিল জানান, সকাল ১০ টার দিকে নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে রেঞ্জ অফিস থেকে লাশ বাড়িতে আনা হয়। তার চার মেয়ে ও প্রতিবন্ধী এক ছেলে রয়েছে। অন্যের নৌকায় জেলে শ্রমিক হিসেবে সুন্দরবনে মাছ ধরে সংসার চলতো হতদরিদ্র সাহেব আলীর। একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীর মৃত্যুতে সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী চরম সংকটে পড়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সময় মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো সাহেব আলী বেঁচে যেতো।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক (এসসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, নিহত জেলের লাশ দুপুর ১২ টার দিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন ও রোগী বহনের দ্রুত গতির নৌযানের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা