kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

পূর্বধলায় ১২ বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে পাঠদান ব্যহত

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পূর্বধলায় ১২ বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে পাঠদান ব্যহত

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্ণিত করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। এর মধ্যে ২টি বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে এসে আতঙ্কে থাকতে হয়। সেই সাথে ব্যহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে হিরিভিটা ও বিলকাউসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ৭ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বিকল্প হিসেবে অস্থায়ীভাবে টিনের ঘর নির্মাণ করে এসব বিদ্যালয়ে কোনো রকমে পাঠদান চলছে।

সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করে আরো ১০টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন জীবনের ঝুঁকি মধ্যে থাকতে হয় অন্যদিকে তেমনি পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের ভবনের কোনোটির দেয়াল দেবে গেছে। কোনোটির দেয়াল ও ছাদে ফাটল, কোনো কোনোটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোনোটির ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। কোনো কোনোটির টিনসেট ঘরে নড়বড়ে হয়ে গেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো হলো বিলকাউসী, পূর্ব জারিয়া, হিরিভিটা, নোয়াগাঁও, নোয়াপাড়া, বোয়ালিয়াকান্দা, পূর্ব পাটরা, দুগাছি, মধুনাল, ধোবারুহি, মজুয়াকান্দা ও বাদে পুটিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

হিরিভিটার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার বলেন, ৭ বছর আগে একমাত্র পাকা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এলাকাবাসীর সহায়তায় অস্থায়ীভাবে একটি টিনসেট ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এটিতে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রচণ্ড গরমে শ্রেণি কক্ষে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে পাঠাদান ব্যহত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক বলেন, ঝুঁকির মধ্যে পাঠদানে মন বসে না। কারণ পরিবেশের সাথে পাঠদান কার্যক্রমের একটি নিবিড় সম্পর্ক আছে। তাই কোনো রকমে শুধু চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার পাঠানো হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সামদানী বলেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব ভবনে পাঠদান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিগগিরই এসব বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ করা দরকার। ভবন পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা