kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

মাধবপুরে শহীদের স্বীকৃতি চায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:১১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাধবপুরে শহীদের স্বীকৃতি চায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ছেলে এবং মেয়ে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ায় পাক হানাদার বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে কাজী সফর আলীকে। মায়ের কাপড় দিয়ে বাড়ির পাশেই দাফন করা হয় তাকে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ বছর পরও শহীদের মর্যাদা পাননি কাজী সফর আলী। যুদ্ধে স্বামীকে হারানো শহীদের স্ত্রী আবু জাহান বিবি তার স্বামীর স্বীকৃতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া আবু জাহান বিবি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বড় ছেলে কাজী সফর আলী ও মেয়ে কাজী হেলেনা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। একই পরিবার থেকে ভাই বোন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় রাজাকারের সহযোগিতায় ১৯৭১ সালে ১২ মে পাক হানাদার বাহিনী কাজী সফর আলী ও আসলাম উদ্দিন খানসহ ১২ জনকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়ায় ব্রাশ ফায়ার করে নৃসংশভাবে হত্যা করে। তখন তড়িঘড়ি করে তেলিয়াপাড়ায় মায়ের কাপড় দিয়ে শহীদ সফর আলীকে দাফন করা হয়। শুধু তাই নয় তেলিয়াপাড়ায় তাদের পুরোবাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধে স্বামীকে হারিয়ে ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে জীবন চলছে আবু জাহান বিবির। শহীদ সফর আলীর ছেলে কাজী হুমায়ুন বলেন, আমার ভাই বোন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় যুদ্ধের সময় শিশু অবস্থায় আমার পিতাকে হারিয়েছি। আমার মা অনেক কষ্ট করে আমাদের লালন পালন করেছেন। দেশ স্বাধীনের পরেও স্থানীয় রাজাকাররা আমাদের জমি জমা দখল করে আমাদের মামলা মোকদ্দমা দিয়ে নির্যাতন করেছে। বাবার শহীদের স্বীকৃতি পেতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত স্বীকৃতি না পেয়ে আমরা হতাশ। আমার মায়ের আক্ষেপ মারা যাবার আগে তার স্বামী শহীদের স্বীকৃতি ও কবর সংরক্ষণ ও সংস্কার দেখে যেতে চান।

হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী পাঠান বলেন, শহীদ সফর আলীর ২ সন্তান একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় তাদের পিতাকে ৭১’ পাক হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নির্দেশে শহীদ কাজী সফর আলীসহ মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের স্বীকৃতি ও কবর সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা