kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

কিশোরগঞ্জে শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতি

সম্মাননা পেলেন ২৬ গুণী সংস্কৃতিজন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সম্মাননা পেলেন ২৬ গুণী সংস্কৃতিজন

শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কিশোরগঞ্জের ২৬ জন গুণী সংস্কৃতিজনকে সম্মাননা দিয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি। শুক্রবার রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুণী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। নৃত্যে বিশেষ অবদান রাখায় প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিনী মোনালিসা ইসলাম শিলাকেও সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি কিশোরগঞ্জের মেয়ে। গুণী নৃত্যশিল্পী হিসেবে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। 

এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জাতির ছন্দপতন হয়। তখন শুধু বিরাজনীতিকিকরণ নয়, শিল্প-সংস্কৃতিতে দেখা দেয় চরম দৈন্যতা। একাত্তরের পরাজিত শক্তি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতাকে হত্যার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতি চর্চাকে রুদ্ধ করে। এ বন্ধ্যাত্ব চলেছে দীর্ঘদিন।   
তবে দেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সরকার সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে উৎসাহ দিচ্ছে। পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলাকে। আমরা একটি আনন্দময় নির্মল সমাজ গড়ার লক্ষে কাজ করে চলেছি। গুণীদের সম্মাননা তারই ধারবাহিকতা। এসব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন কিশোরগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সচিব মো. আব্দুল কাদির মিয়া। সম্মাননা অনুষ্ঠানটি পরিচালানা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম জাহান। সম্মাননা অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা শিল্পকলার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিবছরই এ সম্মাননা দেওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে গত পাঁচ বছর এ পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছিল না। তাই পাঁচ বছরের পুরস্কার এক সঙ্গে দেওয়া হলো। সামনে প্রতিবছরই এ সম্মাননা দেওয়া হবে। 

আলোচনা সভার পর পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা জেলার ২৬ গুণী সংস্কৃতিজন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা তুলে দেন। এ সময় সম্মাননা অভিষিক্ত সবাইকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র, ক্রেস্ট ও নগদ ১০ হাজার টাকা। 

২০১৪-২০১৫ সালের সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন অমর চন্দ্র শীল (সংগীত), নারায়ন দেব (নৃত্যকলা), সুধেন্দু বিশ্বাস (নাট্যকলা), মো. আব্দুস সাত্তার (যাত্রা শিল্প) ও বাঁধন রায় (আবৃত্তি)। ২০১৫-২০১৬ সালের সম্মাননা পেয়েছেন, বিজনকান্তি দাস (সংগীত), সবিতা মাহমুদ (নৃত্যকলা), মৃণাল দত্ত (নাট্যকলা), মো. মোতালিব হোসেন রাজা (যাত্রা শিল্প) ও অসিত বরণ বসাক তপন (যন্ত্রশিল্পী)।

২০১৬-২০১৭ সালের সম্মাননা প্রাপ্ত সংস্কৃতিজনেরা হলেন এম এ কাইয়ুম (চারুশিল্প), শহীদুজ্জামান স্বপন (সংগীত), সৈয়দ মোনালিসা ইসলাম শিলা (নৃত্যকলা), ফৌজিয়া জলিল ন্যান্সি (নৃত্যকলা), মো. শামসুজ্জামান সেলিম (আবৃত্তি) ও নাসিরউদ্দিন ফারুকী (লোক সংস্কৃতি)। ২০১৭-২০১৮ সালের সম্মাননা পেয়েছেন, ম ম জুয়েল (আবৃত্তি), কাজল দেব (সংগীত), জাহাঙ্গীর আলম জাহান (লোক সংস্কৃতি গবেষণা), ধনেশ চন্দ্র পণ্ডিত (নৃত্যকলা) ও ফাতেমা আক্তার রত্না (যাত্রাশিল্প)।

এ ছাড়া ২০১৮-২০১৯ সালে সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণীরা হলেন মো. আবুল হাশেম (সংগীত), বিজন কুমার সাহা (যাত্রাশিল্প), হারিছ উদ্দিন (লোক সংস্কৃতি), মানস কর (নৃত্যকলা) ও মোজাম্মেল হক খান রতন (নাট্যকলা)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা