kalerkantho

মাটি তাদের বেঁচে থাকার প্রেরণা

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাটি তাদের বেঁচে থাকার প্রেরণা

নিজের হাতে মাটি দিয়ে তৈরি জিনিষপত্র বিক্রি করে পরিবার চলে কুমোর পল্লীর ২৫ পরিবারের। মাটিই তাদের জীবন-জীবিকার প্রধান হাতিয়ার। মাটি যেন তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র প্রেরণা। নিপুণ কারুকার্যে মাটি দিয়ে তৈরি করেন গৃহস্থালী নানান কাজে ব্যবহার্য্য জিনিসপত্র। পাশাপাশি তৈরি করে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন রকম শোপিস। এসব কারিগরের ঐকান্তিক পরিশ্রমে তৈরি এসব রূপ নেয় শিল্পে। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে এসব শিল্প। অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কুমার পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন মৃৎশিল্পী মটি দিয়ে জিনিষপত্র তৈরি করছেন। এ সময় ওই গ্রামের সবিতা রাণী (৫২) এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আগের মতো আর মাটির জিনিষের কদর নাই, তেমন বিক্রিও হয় না। তাই আয়ও হয় না। যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চলে না। 

এ পাড়ার প্রায় ২৫টি পরিবার জীবন-জীবিকার জন্য মৃৎশিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও জড়িয়ে আছে এ শিল্পের  সাথে। বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি এ শিল্প যেন জড়িয়ে আছে তাদের রক্তের শিরায় শিরায়। মাটি, কাঠের গুড়া, শুকনো পাতা দিয়ে তৈরি করেন হাড়ি, দৈ রাখার পাতিল, কলস, চাড়ি, মাটির সানকি, মাটির রিং স্লাব, ফুলের টব, ফুলদানি, কলমদানি, মাটির আম, কলা, কামরাঙা, বিভিন্ন পশুপাখিসহ বিভিন্ন ধরনের শোপিস সামগ্রী। পুরুষের পাশাপাশি তারাও জড়িয়ে আছে সমভাবে।

এমন স্মৃতিচারণ করে ময়না (৫০), মায়া রাণী (৪০),পারুল রাণী (৫০) সহ অনেকে বলেন, পরিবারের একটু স্বচ্ছলতার জন্য তারা স্বামীর সাথে কাজ করছেন। ওই গ্রামের শচীন্দ্র পাল (২৮) বলেন, এখন মাটি পাওয়া যায় না। টাকা দিয়ে মাটি কিনতে হয়, তখন তৈরিকৃত জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যায়। কেনাবেচা কম হওয়ায়  রোজগারও কমে গেছে। মহাজনদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে কাজ করে তেমন লাভ হয় না।

এক সময় মাটির তৈরি এসব পণ্যের প্রচুর ব্যবহার ও চাহিদা ছিল। এখন মাটির তৈরি তৈজসপত্রের চাহিদা কমে গেছে। স্থান দখল করে নিয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য। এসবের দাম বেশি হলেও টেকসই হওয়ায় মাটির তৈরি এসব পণ্য আর কিনতে চান না। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে অনেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন এ পেশা।

বছরে ছয় মাস এ ব্যবসা চললেও বর্ষাকালে বন্ধ থাকে তাদের কাজ। ফলে অনেকটাই নিদারুণ কষ্টে দিন কাটে এসব মাটির মানুষদের। কুমার পল্লীর মানুষজনের দাবি, পৃষ্টপোষকতা না পেলে হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ মৃৎশিল্প।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা