kalerkantho

ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তান বাবার পরিচয় পেল ১৭ বছর পর

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তান বাবার পরিচয় পেল ১৭ বছর পর

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ধর্ষণের শিকার বাস্তুহারা এক নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তানের ১৭ বছর পর পিতৃপরিচয় মিলেছে। উচ্চ আদালতের আদেশে ডিএনএ পরীক্ষার পর সন্তানের জন্মদাতা শনাক্ত হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের জয়শিং গ্রামের মেয়ে ওই ধর্ষিতা নারী। ২০০০ সালে তার বাবার বসতভিটা বাঙ্গালী নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এরপর তিনি তার মায়ের সাথে স্থানীয় সোনাহাটা বাজার এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করতে থাকেন। এ অবস্থায় ২০০১ সালে জয়শিং গ্রামের গমির উদ্দিন মন্ডলের বখাটে ছেলে মাহফুজার রহমান ঝুপড়ি ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মাহফুজারের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহফুজার রহমানের বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তার গর্ভে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান। বর্তমানে সেই কন্যার বয়স ১৭ বছর। এদিকে ধর্ষণ মামলায় প্রায় ৬ বছর আগে মাহফুজার রহমানের যাবজ্জীবন সাজার আদেশ হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মাহফুজার রহমান বর্তমানে বগুড়া জেলা কারাগারে রয়েছেন। এ অবস্থায় মাহফুজার রহমান সন্তানের দায় এড়াতে ধর্ষিতার ডিএনএ পরীক্ষার জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করেন।

আদালতের আদেশে ৩০ জুন ঢাকা সিআইডির সদর দপ্তরে দীপংকর দত্ত নামে এক পরীক্ষক মাহফুজার, ওই নারী ও তার মেয়ের ডিএনএ পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় মাহফুজার রহমানের মেয়ে হিসেবে তার পরিচয় মিলেছে। গত ৬ আগস্ট দীপংকর দত্ত স্বাক্ষরিত ডিএনএ পরীক্ষায় প্রত্যয়ন পত্রটি ঢাকা সিআইডির সদর দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার ধুনট থানায় পৌঁছায়।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকা সিআইডির সদর দপ্তর থেকে পাওয়া ডিএনএ পরীক্ষার প্রত্যয়ন পত্রের বিষয়টি মাহফুজার, মা-মেয়েকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে ফয়সালা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা