kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

জাল সনদে চাকরি করেন শিক্ষিকা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাল সনদে চাকরি করেন শিক্ষিকা

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল সনদ দিয়ে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে শেফালী বেগম নামে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিভাবকমহল প্রতিকার চেয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও বিষয়টি কেউ আমলে নিচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গেলে এ সম্পর্কে বিদ্যালয়ের কেউই কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। অভিযোগে বলা হয়, সদর উপজেলার রুহিয়া থানার রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারিক পদে শেফালী বেগম দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন। শেফালী বেগমের স্বামী আব্দুল জব্বারও ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। বিদ্যালয়ে জাল সনদপত্র দিয়ে চাকরি শুরু করেন শিক্ষিকা শেফালী বেগম। অথচ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানার পরও তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাল সনদ দিয়ে চাকরি করার অভিযোগ তুলে চলতি বছরের গত ২৫ জুন বেশকয়েকজন অভিভাবক লিখিতভাবে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগীয় কর্মকর্তা, দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তদন্তই করা হয়নি। 

অভিযোগকারী অভিভাবক মশিউর রহমান বলেন, রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় একটি সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করে অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এই সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন জাল সনদ দিয়ে চাকরি করে আসছেন শিক্ষিকা শেফালী বেগম। যদি মানুষ তৈরির কারিগররা জাল সনদ দিয়ে চাকরি করেন তাহলে এই এলাকার শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জানিয়েছেন তারা।

আব্দুল বাতেন নামের আরেক অভিভাবক বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা শেফালী বেগম চাকরি করছেন। এ বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ সহ সকলেই জানলেও কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তিনি আরো জানান, একটি বিদ্যালয় থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আসবে। আর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে জাল সনদ দিয়ে চাকরি করছেন। এটা কেমন করে সম্ভব? 

অভিযুক্ত শিক্ষিকা শেফালী বেগমের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। আর রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনিও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, জাল সনদ দিয়ে রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শেফালী বেগম নামে এক শিক্ষিকা চাকরি করছেন বলে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা