kalerkantho

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে স্থানীয়দের সাথে প্রশাসনের মতবিনিময়

দুবছরে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য ফিরেছে, প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুবছরে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য ফিরেছে, প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি নেই

দেশে আশ্রিত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের নানা সমস্যার সমাধানে দুই বছর পর অবশেষে বৃহস্পতিবার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কক্সবাজারের প্রশাসনের এক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়া এবং রোহিঙ্গা সমাবেশসহ নানা ঘটনার পর এ মতবিনিময়সভা ডাকা হয়। গত দুই বছরেএলাকাবাসীর সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটিও মতবিনিময়সভা না করার ঘটনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন।

এলাকার লোকজন বলছেন, কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফ উপজেলায় আশ্রয় নেওয়া এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে গত দুই বছর যাবত বিশ্বব্যাপী সরব আলোচনা চলছে। এমনকি রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসেছে। এতদিন ধরে দুনিয়া জুড়ে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সোচ্চার হলেও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিয়োজিত প্রশাসন ছিল নির্বিকার। অথচ এ দু’বছরে রোহিঙ্গা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে কেবল দেশি-বিদেশি এনজিও এবং সংস্থার সাথে বৈঠকেই সময় পার হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব বৈঠকে এনজিও এবং রোহিঙ্গাদের নানামুখি ভাগ্য ফিরলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো কুল কিনারা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফের বাহারছড়া ও হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মৌলানা আজিজ আহমদ এবং রাশেদ মাহমুদ আলী কালের কণ্ঠকে জানান, গত দু’বছর ধরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আমরা স্থানীয়রা ছিলাম অনেক দূরে। এ কাজে আমাদের ডাকা হয়নি। অথচ আমাদের সম্পৃক্ত করা হলে এতদিনে অনেক রোহিঙ্গা দেশে ফিরে যেত।

তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের সাথে ভাষাগত এবং স্থানীয়সহ নানাভাবে একে অপরের সাথে একাকার। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাজে সম্পৃক্ত করা হলে সহজেই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

গেল সপ্তাহে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিয়োজিত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি)সহ কয়েকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) প্রত্যাহার হওয়ার পর অবশেষে আজ এ মতবিনিময়সভাটি ডাকা হয়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা প্রশাসনের শহীদ এ টি এম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে। সভায় কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা পরিষদসহ ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদ্বয় উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় অন্যান্যের মধ্যে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত আরআরআরসি মোহাম্মদ শামসুদ দ্দৌজা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহাজান আলী, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম ও কক্সবাজার প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক অবু তাহের বক্তৃতা করেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েক হাজার দোকানপাট এবং হাট-বাজারগুলো অবিলম্বে সরকারি নিয়ম-কানুনের আওতায় আনা হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যে সব ব্যক্তি বা এনজিও রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের গোপন কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ। রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয়দের বিয়ে-শাদী ও ফেসবুকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উসকানিমূলক পোস্টসহ অন্যান্য বিষয়েও প্রশাসনিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সাথে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পগুলো থেকে রোহিঙ্গারা দলে দলে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।

উখিয়ার রাজা পালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য স্থাপিত চেকপোস্টে রোহিঙ্গার চেয়ে স্থানীয়দের হয়রানির মুখে পড়তে হয় বেশী। তাই তিনি স্থানীয় উখিয়া-টেকনাফের বাসিন্দাদের জন্য পৃথক আইডি কার্ড দাবি করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা