kalerkantho

কালের কণ্ঠ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ

সেই বন্ধ রাস্তা খুলে দিলেন এসিল্যান্ড

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই বন্ধ রাস্তা খুলে দিলেন এসিল্যান্ড

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের সেই বন্ধ রাস্তা খুলে দিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মঈনুল হক। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তায় থাকা বাঁশের বেড়া উচ্ছেদ করেন। 

গত ৭ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠ অনলাইনে 'রাস্তা বন্ধ করায় দুই পরিবার অবরুদ্ধ ও ২০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রশাসনের নজরে আসলে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাঁশের বেড়া উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন, উপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ভাওড়া ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য হুমায়ুন ও সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার গত ৩১ আগস্ট রাস্তাটির দুই পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেন। রাস্তাটি বন্ধ করায় ওই গ্রামের আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদ মিয়ার পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তা ছাড়া হাড়িয়া গ্রামের ৪৫টি পরিবার ও ভাওড়া এবং উয়ার্শী ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে হাড়িয়া গ্রামবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 

হাড়িয়া ও আশপাশের গ্রামের লোকজন ওই রাস্তা দিয়ে হাড়িয়া বাজার, হাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে থাকে। গত এক মাস আগে হাড়িয়া গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার ও তার ভাই ফজলু মিয়া, মজিবর ও শাজাহান রাস্তাটির উত্তর পাশে ও রশিদের বাড়ির পশ্চিম পাশে প্রথমে বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এতে হাড়িয়া গ্রামের ৪৫টি পরিবার, উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের উয়ার্শী, সাফর্তা, নওগাঁও, নাগরপাড়া, ধামরাই উপজেলার বাংগলা, দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটীসহ ২০টি গ্রামের লোকজনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁশের বেড়া ভেঙে দেন। 

পুনরায় ৩১ আগস্ট আব্দুর রউফ মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে আব্দুল কুদ্দুছ মিয়ার সীমানায় ইউপি সদস্য হুমায়ুন মিয়ার নির্দেশে এবং পশ্চিম পাশে সেকান্দার গংরা বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এতে আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদের পরিবার পুনরায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এদিকে রাস্তাটি বন্ধ থাকায় গ্রামের ৪৫টি পরিবারসহ ২০টি গ্রামের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ঘটনাটি জানার পর গত বৃহস্পতিবার মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দীপঙ্কর ঘোষ, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক, মির্জাপুর থানার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েও রাস্তাটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে না পারায় গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। 

ভুক্তভোগী পরিবারের আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদ মিয়া জানান, দেরিতে হলেও জনসাধরণের চলাচলে প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তাটি উন্মুক্ত হওয়ায় আমাদের পরিবারসহ গ্রামবাসী খুশি। 

আজ উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. মঈনুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাটি খুলে দেন।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনুর (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. মইনুল হক বলেন, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বেড়া উচ্ছেদ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা