kalerkantho

পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ১

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ১

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে হুমায়ূন কবির (৩২) নামে এক যুবক নিহত ও দুইজন আহত হয়েছে। 

বুধবার রাতে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ধোপাঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী ও গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ অনুকুল সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধোপাঘাট গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন ও মৃত শহর আলী মণ্ডলের পরিবারের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায় ১০-১২ বছর পূর্বে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সেই বিরোধের জের ধরে ইতিপূর্বে দুই পরিবারের মধ্যে বহুবার ঝগড়া-মারামারির ঘটনা ঘটে। দুই বছর পূর্বে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত আব্দুল মতিনের ছেলেরা মৃত শহর আলী মন্ডলের ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় শহর আলী মন্ডলের ছেলে শরিফুল, আলিফ ও নয়ন জামিন পেয়ে বিদেশে চলে যায়। 
সম্প্রতি তারা দেশে ফিরে এলে দুই পরিবারের বিরোধ নতুন করে শুরু হয়। বুধবার বিকালে ফের দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ধোপাঘাট বাজারে গফরগাঁও-ভালুকা সড়কের উপর দুই পরিবারের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে রামদার আঘাতে মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে হুমায়ুন কবির, জজ মিয়া (৩০) ও শহর আলী মন্ডলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৬) গুরুতর আহত হয়। 

পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় হুমায়ুন কবির মারা যায়। আহত দুই জনকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

খবর পেয়ে গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী, গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ অনুকুল সরকার ও পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাতভর ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এ ঘটনায় গফরগাঁও থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাবুল আলম বলেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর পূর্বে বহুবার ঝগড়া-মারামারি হয়েছে। বিরোধের জের ধরেই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ অনুকুল সরকার বলেন, দুই পরিবারের বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ ও লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা