kalerkantho

সাংবাদিক জুনাইদ হত্যা মামলার রায় ২৩ সেপ্টেম্বর

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাংবাদিক জুনাইদ হত্যা মামলার রায় ২৩ সেপ্টেম্বর

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের বহুল আলোচিত সাংবাদিক জুনাইদ আহমদ হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নাছিম রেজার আদালতে দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য্য করা হয়।

বুধবার দীর্ঘ যুক্তিতর্ককালে জুনাইদ আহমদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ ফারুক, অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতু, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান ও অ্যাডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান।

আসামি পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবুল ফজল ও অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন। পলাতক হয়ে বিদেশে চলে যাওয়া প্রধান আসামি ফরিদ মিয়ার পক্ষে স্টেইট ডিফেন্স হিসাবে যুক্তিতর্ক করেন অ্যাডভোকেট জাকারিয়া। এর আগে ২০ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয় আলোচিত এই মামলার।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১০ জুলাই সাংবাদিক জুনাইদ আহমদ বাড়ি থেকে বের হয়ে জেলা সদর হবিগঞ্জে যান। ওই রাতেই দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লাশের আলামত নষ্ট করার জন্য শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইনে ফেলে রাখে। পরদিন সকালে তার মৃতদেহ প্রায় ২০ টুকরা অবস্থায় রেলওয়ে পুলিশ উদ্ধার করে।

ঘটনার শুরুতেই জুনাইদ আহমেদের পরিবার এটাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিল। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে জুনাইদের ভাই মোজাহিদ আহমদ বাদী হয়ে হবিগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে একই গ্রামের ফরিদ উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি এফআইআর গণ্যে রুজু করার জন্য জিআরপি থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন। মামলার খবর পেয়েই প্রধান আসামি ফরিদ লন্ডনে পালিয়ে যায়। অপর আসামিরাও আত্মগোপন করে।

এদিকে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকায় জুনাইদের পরিবার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের কাছে উক্ত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের আবেদন করেন। মন্ত্রী এক মাসের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট পুলিশকে নির্দেশ দিলেও কোনো ফল হয়নি। এক পর্যায়ে নিহত জুনাইদের পরিবারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহুবল থেকে পুলিশ মামলার ২নং পলাতক আসামি আব্দুল হামিদকে গ্রেপ্তার করে। পরে রেলওয়ে পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন করে তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে নিয়ে ওই কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রকার ক্লু উদঘাটন না করে আসামিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ উঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জুনাইদের পরিবার বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি সোহরাব হোসেন এর নিকট অভিযোগ দিলে তিনি নিহত সাংবাদিকের পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডিআইজি সোহরাব হোসেন শায়েস্তাগঞ্জে পৌঁছেন।

এ মামলার প্রধান আসামি ফরিদ লন্ডনে পলাতক, অপর আসামি বাহুবলের মাদক সম্রাট আব্দুল হামিদকে স্থানীয় জনতা আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। প্রায় বছর খানেক জেল খেটে বের হলে স্থানীয় লোকজন তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলে। ৩য় আসামি বাদশা ৬ মাস জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পায়। ৪র্থ আসামি রাহুলও ৬ মাস জেল খাটার পর জামিনে মুক্ত রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা