kalerkantho

দুপুরের খাবার খাওয়া হলো না মঈনুদ্দিনের

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৪৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দুপুরের খাবার খাওয়া হলো না মঈনুদ্দিনের

দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় হয়েছে মাত্র। অন্যান্য শ্রমিকরা খাবার খেতেও বসেছেন। সহযোগীরা মঈনুদ্দিনকে খাবার খেতে ডাকছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে খনন যন্ত্রের (স্কেভেটর) হাতলের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন হত দরিদ্র ঘাট শ্রমিক শেখ মঈনুদ্দিন। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

এমনই এক মর্মবিদারক ঘটনা ঘটে আজ বুধবার দুপুরে যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজ টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন মাস্টার ঘাট নামক এক কয়লার ঘাটে। নিহত মঈনুদ্দিন উপজেলার ভাঙ্গাগেট লক্ষ্মীপুর গ্রামের কালু শেখের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, দুপুর ১টার সময় মঈনুদ্দিনসহ তারা ৪/৫ জন শ্রমিক মাস্টার ঘাটে কয়লা স্তুপের কাজ করছিলেন। অন্যান্য শ্রমিকরা খাবার খেতে বসে মঈনুদ্দিনসহ তাদেরকে ডাকছিলেন। এ সময় নওয়াপাড়া বাজারের জিএইচ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্কেভেটর স্তুপকরা কয়লা ট্রাকে লোড দিচ্ছিল। স্কেভেটর চালক মোস্তফার অসাবধানতায় স্কেভেটরের হাতলটি কয়লাসহ ঘোরানোর সময় দাড়িয়ে থাকা মঈনুদ্দিনের বুকে আঘাত করে। সাথে সাথে মঈনুদ্দিন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তার নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুকে প্রচণ্ড আঘাতের কারণে ফুসফুস বন্ধ হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে মেডিক্যাল অফিসার ডা. আলিমুর রাজিব জানান। 

নিহতের পিতা কালু শেখ বলেন, ছেলে একসিডেন্ট করেছে শুনে হাসপাতালে এসে লাশ দেখছি। আমি জানি না কি হয়েছিল। কথাগুলো বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্কেভেটর চালক মোস্তফা হতবাক হয়ে বলেন, আমি মনে করেছিলাম শ্রমিকরা দুপুরের খাবার খেতে চলে গেছে। মঈনুদ্দিন ওখানে ছিল তা আমি জানি না বা দেখতে পাইনি।

এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, একজন ঘাট শ্রমিকের লাশ থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা