kalerkantho

বেত ছুঁড়ে ছাত্রীর চোখ নষ্ট করে বহিষ্কার হলেন সেই শিক্ষক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেত ছুঁড়ে ছাত্রীর চোখ নষ্ট করে বহিষ্কার হলেন সেই শিক্ষক

হবিগঞ্জে বেত ছুঁড়ে মেরে ৩য় শ্রেণির ছাত্রী হাবিবার চোখ নষ্টকারী সেই শিক্ষক নিরঞ্জন সরকারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন তদন্ত কমিটি করা হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যদি অপরাধ গুরুতর হয় তাহলে তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে।

এদিকে অপারেশন করে হাবিবার চোখ কেটে ফেলে দেওয়ার পর ঢাকার আগারগাঁওস্থ চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে মেয়েটি। হাসপাতালের চিকিৎসক বলেছেন, ২ মাসের মাঝে যদি চোখের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে তা লাগানো সম্ভব। অন্যথায় চোখ আর লাগানো যাবে না। কাল বৃহস্পতিবার হাবিবার রিলিজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে হাবিবার দুবাই প্রবাসী পিতা শাহিন মিয়া তার স্বজনদেরকে বলেছেন, যেকোনো মূল্যে যেন তার মেয়ের চোখ লাগানো হয়। কিন্তু কোথাও চোখ পাওয়া যাচ্ছে না। হাবিবার স্বজনরা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ঢাকায় এসে চিকিৎসা করাচ্ছি। শিক্ষা বিভাগের কোনো লোক আমাদের খবর নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদের ফোন নাম্বার না পাওয়ায় যোগাযোগ করতে পারছি না। তবে আমরা হাবিবার পক্ষেই আছি এবং সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এর আগে রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দেবনাথ একটি বেত ছুঁড়ে মারলে হাবিবার চোখে লাগে। এতে তার চোখের মনি গলে গেলে তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবাকে ঢাকায় প্রেরণ করেন। সোমবার ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অপারেশন করে তার চোখ কেটে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় হাবিবার সাথে ছিলো তার মা রুবিনা খাতুন, চাচা মাহিন মিয়া ও আঘাতকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দেবনাথ।

মাহিন মিয়া বলেন, চোখটি কেটে ফেলে দেওয়ার পর হাবিবা এবং তার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দুবাই প্রবাসী বাবা শাহিন মিয়াও সেখান থেকে ফোন করে বার বার কান্নাকাটি করছেন। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন তারা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক অথবা কারো সাথে যেন কথা না হয়- সেজন্য বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা মেয়েটির পরিবারকে চাপ প্রয়োগ এবং রফাদফার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন মাহিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা