kalerkantho

শরীয়তপুরে অপহৃত শিশু উদ্ধার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শরীয়তপুরে অপহৃত শিশু উদ্ধার

এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবিতে অপহরণ করা শিশু আব্দুস নুর শিশিরকে (৮) পুলিশ উদ্ধার করেছে। ঘটনার ১৮ ঘন্টার মধ্যে পালং মডেল থানা পুলিশ অপহৃত শিশুকে উদ্ধারের পাশপাশি আটক করেছে তিনজনকে। মঙ্গলবার বেলা ৩টায় গোসাইরহাটের কোদালপুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পালং মডেল থানার ওসি মো.আসলাম উদ্দিন বলেন, 'মুক্তিপণের জন্য শিশির নামে এক শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল। স্বল্প সময়ে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে অঘটনের সম্ভবণা ছিল। অপহরণকারীরা শিশুকে অচেতন করতে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোসহ মারধর করেছে। তাতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।'

সূত্র জানায়, শিশুকে অপহরণ ও মুক্তিপন দাবির ঘটনায় পুলিশ তিন যুবককে আটক করেছে। তারা হলেন - ইউসুফ ঢালী (২২), রাসেদ (২১) ও সৌরভ (২০)। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

শিশিরের বাবা মাস্টার সাত্তার খালাসী জানান, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে শিশির নিখোঁজ হয়। সন্ধ্যায় অপরিচিত নম্বর থেকে  মোবাইলে কল দিয়ে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশকে বিষয়টি জানালে আইনানুগ পদক্ষেপ শুরু হয়। এক পর্যায়ে শিশিরকে উদ্ধার করে দেয় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর পৌরসভার তুলাসার গ্রামে সাত্তার খালাসীর বসবাস। গত বছর নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙ্গনে সহায় সম্বল হারিয়ে তিনি এখানে বসবাস শুরু করেন। মাস্টার সাত্তার খালাসী ও সালমা আক্তার বকুল দম্পতির একমাত্র সন্তান শিশির। সে শরীয়তপুর কালেক্টরেট কিশলয় কে.জি স্কুলের নার্সারী শ্রেণীর ছাত্র। সোমবার স্কুল থেকে ফিরে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে যায় শিশির। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যায় অপহরণকারীদের ফোন কল পেয়ে ভীত হয়ে পড়েন স্বজনরা। পালং থানা পুলিশ মঙ্গলবার গোসাইরহাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় কোদালপুর এলাকার হাজী দেওয়ান বাড়ী গ্রাম থেকে শিশুকে উদ্ধার করে। সেখানে আল আমিন মেম্বারের বাড়ীতে অসুস্থ অবস্থায় শিশুকে রাখা ছিল।

পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে অপহরণকারী দলের এক সদস্য অসুস্থ শিশিরকে নিয়ে দাড়িয়ে ছিল ইউপি সদস্য আল আমিনের বাড়ির পাশে। এ সময় আল আমিনের ভাই আলাউল মাছ শিকার করে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি যুবকের কাছে ঘটনা জানতে চান। তখন শিশুকে ভাইয়ের ছেলে পরিচয় দিয়ে যুবক হাসপাতালে যেতে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে সটকে পড়ে। এরপর শিশুকে মেম্বারের বাড়িতে রেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা