kalerkantho

একটিই কাচের চুড়ি ভেঙেছিল, সারা গায়ে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন চালানো হলো

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি    

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:৫২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একটিই কাচের চুড়ি ভেঙেছিল, সারা গায়ে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন চালানো হলো

তানভীর রাফসান সাদলি ও মেহেরুন্নেসা অপি।

একটি মাত্র কাচের চুড়ি ভেঙে ফেলায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাদিয়া নামের আঠারো বছরের এক গৃহকর্মী অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ভৈরব বাজারের বাতাশাপট্টি এলাকার তানভীর রাফসান সাদলি ও মেহেরুন্নেসা অপি দম্পত্তির হাতে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হন সাদিয়া। বর্তমানে তিনি ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। 

সাদিয়া জানান, সোমবার বিকেলে বাসার ওয়্যারড্রপ পরিষ্কার করার সময় অসতর্কতাবশত তার হাতের ধাক্কায় চুড়ি রাখার আলনাটি পড়ে যায়। এতে একটি কাচের চুরি ভেঙে যাওয়ায় তার ওপর নির্যাতন চালান গৃহকর্তী মেহেরুন্নেসা অপি। প্রথমে লাঠি দিয়ে বেধরক পিটিয়ে আহত করে ছুরি দিয়ে আঘাত করে চোখের উপড়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতেই ক্ষান্ত হননি নিষ্ঠুর গৃহকর্তী অপি। এরপর গৃহকর্মী সাদিয়ার শরীরে গরম পানিও ঢেলে দেন তিনি। পরে গৃহকর্তা তানভীর রাফসান সাদলি ঘটনা শুনে তিনিও অসহায় সাদিয়াকে বেধরক লাঠিপেটা করেন। এ সময় নিজের আত্মরক্ষার্থে কোনো রকমে বাসা থেকে পালিয়ে রাস্তার কয়েকজনের সহযোগিতা নিয়ে হাসপাতালে যান সাদিয়া।

সাদিয়া আরো জানায়, প্রায়ই তাকে কারণে-অকারণে লাঠিপেটাসহ গরম পানির সেক দেওয়ার মতো বর্বর নির্যাতন করা হতো। এমনকি বাসার সবাই কোথাও বেড়াতে গেলেও সাদিয়াকে তালাবদ্ধ করে রেখে যেতো।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অভিযুক্ত দম্পত্তিকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফেরদৌস হায়দার জানান, নির্যাতনের শিকার সাদিয়ার শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্যাতনের চি‎হ্ন পাওয়া গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা