kalerkantho

শেরপুরে স্কুল ভবন নিলাম ডাকে ছাত্রলীগ নেতার কারসাজি

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেরপুরে স্কুল ভবন নিলাম ডাকে ছাত্রলীগ নেতার কারসাজি

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন অপসারণ ও নিলাম প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ছাত্রলীগের এক প্রভাবশালী নেতা শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে ২ লাখ টাকা মূল্যের ভবন মাত্র ২৬ হাজার টাকায় হাতিয়ে নিয়েছে। 

ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম মিলনুর রহমান। তিনি উপজেলার বাগড়া গ্রামের নয়ামিয়ার ছেলে এবং কুসুম্বি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। এই নিলাম ডাকের কথা কেউ জানেন না। তবে গত দুই দিন ধরে শ্রমিকেরা ওই ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে নিলামের বিষয়টি জানাজানি হয়। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৩১ সালে উপজেলার টুনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এরপর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১০ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে পাশেই আরেকটি নতুন ভবন নির্মাণ করে সেখানেই পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। 

তাই বিদ্যালয়টির পরিত্যক্ত ওই ভবন ও মালামালগুলো ১৮ আগস্ট নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঢোল-সহরত দিয়ে কিংবা মাইকযোগে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে নিলাম ডাকের কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এমনকি গণমাধ্যমেও কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। শুধু কাগজ-কলমে নিলাম প্রক্রিয়া দেখিয়ে সম্পূর্ণ গোপনে এই কাজটি করা হয়। তবে দুই লাখ টাকার ওই ভবনটি কীভাবে এত কম টাকায় বিক্রি করা হলো তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা মিলনুর রহমান জানান, সকল নিয়ম মেনে নিলাম ডাকে অংশ নিয়ে পরিত্যক্ত স্কুল ভবনটি সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা মূল্যে ক্রয় করেছি। এতে দোষের তো কিছু দেখছি না। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফা খাতুন বলেন, নিলাম প্রক্রিয়ার সবকিছুই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে করা হয়েছে। আমাকে কেবল একটি রেজুলেশন পাঠাতে বলা হয়েছিল। আমি তা-ই করেছি। এর বাইরে আর কিছু জানা নেই বলে এই প্রধান শিক্ষক জানান। 

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারী বলেন, এই নিলাম প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়নি। স্থানীয় ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে গোপনে নামমাত্র মূল্যে ওই ভবন ও মালামালগুলো ক্রয় করে নেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনা খাতুন জানান, এই কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। তাই অনেক কিছুই জানি না। তবে নথিপত্রে দেখা যায় নিয়ম মেনেই নিলাম করা হয়েছে। পরিত্যক্ত ওই ভবনটির সরকারি মূল্য ধরা হয় ২৫ হাজার ২০০ টাকা। মোট তিনজন ব্যক্তি এই নিলাম ডাকে অংশ নেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ডাককারী হিসেবে মিলনুর রহমান ২৬ হাজার ২০০ টাকা বলায় তাকেই দেয়া হয়েছে। 

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, সরকারি স্থাপনা নিলাম ডাকের ক্ষেত্রে ঢোল-সহরত দিয়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি গণমাধ্যমেও বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। তবে স্কুল ভবন নিলামের ক্ষেত্রে সেটি করা হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা