kalerkantho

সরকারি বিধিমালা না মেনেই যত্রতত্র পরিচালিত হচ্ছে পীরগঞ্জের করাত কলগুলো

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:২৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সরকারি বিধিমালা না মেনেই যত্রতত্র পরিচালিত হচ্ছে পীরগঞ্জের করাত কলগুলো

করাত কল বিধিমালা ২০১২-তে বলা আছে, কোনো সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান এবং জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে এমন স্থান থেকে কমপক্ষে ২০০ মিটার এবং সরকারি বনভূমির সীমানা হতে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাত কল স্থাপন বা পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু পীরগঞ্জ উপজেলায় কোনো নিয়ম-নীতিই মানছে না করাত কল মালিকরা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, পীরগঞ্জ পৌর ভবনের সামনে এবং ফানসিটি শিশুপার্ক ঘেঁষে গড়ে উঠেছে দুইটি করাত কল। এছাড়াও গুয়াগাঁও এলাকায় মাদ্রাসার পাশে পরিচালিত হচ্ছে ৪টি করাত কল, পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে আরো একটি এবং সাগুনী শালবনের তিন কিলোমিটারের মধ্যে পীরগঞ্জ পৌর শহরের নেতার মোড় এলাকায় রয়েছে একটি করাত কল। শহরের ব্যস্ততম জাবরহাট সড়কের শিমুলতলায় ১টি, মিত্রবাটিতে ১টি ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে করাত কল। পৌর শহরের বিনোদকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তার পাশে এইসব করাত কল পরিচালিত হওয়ায় তা আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে। 

মুনসুর আহমেদ নামে এক পথচারী বলেন, পার্কে শিশুরা খেলাধুলা করে। কাঠের গুঁড়া বাতাসের সঙ্গে শিশুদের নাকে ঢুকে যায়, চোখেও যায়। করাত কলগুলো শহরের বাইরে স্থাপন করার দাবি জানান তিনি। 
স্থানীয়  আব্দুল করিম, বাদল আলী এবং ফাত্তাহু মন্ডল বলেন, করাত কল মালিকরা রাস্তার পাশে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। 

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পীরগঞ্জ উপজেলায় ২৮টি করাত কল রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি করাত কলের লাইসেন্স আছে। ইতোমধ্যে বাকিগুলোকে লাইসেন্স করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও এখন পর্যন্ত কেউ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেনি। নানা অজুহাত দেখিয়ে তারা করাত কল পরিচালনা করছেন। 

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ বলেন, যাদের কাগজপত্র নেই, লাইসেন্স নেই, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যারা নিয়মনীতি না মেনে পরিচালনা করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা