kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিন বছরেও মেলেনি স্ত্রীর মর্যাদা, তাই...

হাটহাজারী প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন বছরেও মেলেনি স্ত্রীর মর্যাদা, তাই...

হাটহাজারী সদরের চট্টগ্রাম হাটহাজারী মহাসড়কের এগার মাইল এলাকা থেকে তাহমিনা সুলতানা রেশমি (২৬) নামে এক সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দ্বিতীয় স্বামীর বাড়িতে এসে স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত লাশ হলেন তিনি। গত রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৮টার দিকে ফতেপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এগার মাইল ফরেস্ট গেইটের বিপরীতে পুরাতন সিনেমা হল সড়কসংলগ্ন মিনহাজ ম্যানশনে এ ঘটনা ঘটে।

ডিভোর্সি তাহমিনা এ ভবনের মালিকের ছেলে মো. নিয়ামত উল্লাহ জীবনকে (৩৩) গত ৩ বছর পূর্বে ভালোবেসে কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করেন। নিহতের পূর্বের সংসারের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

নিহত তাহমিনা সুলতানা রেশমি (২৬) মিনহাজ ভবনের মালিক মো. ইউসুফের ছেলে মো. নিয়ামত উল্লাহ জীবনের (৩৩) স্ত্রী ও চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকার (এমপি এম এ লতিফের বাড়ির পাশে) জনৈক আব্দুন নূরের কন্যা। এ ঘটনায় পুলিশ ভবনের মালিক মো. ইউছুপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আটক ইউসুফের পুরাতন বাড়ি পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে।  

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাহমিনা সুলতানা রেশমির (২৬) সাথে মিনহাজ ম্যানশনের মালিক ইউসুফের ছেলে নিয়ামত উল্লাহ জীবনের কোর্টের মাধ্যমে গত ৩ বছর পূর্বে বিয়ে  হলেও সামাজিকভাবে ঘরে তুলে নেওয়া হয়নি। এ কারণে মাঝে মাঝে জীবনের বাসায় আসা-যাওয়া করত তাহমিনা রেশমি। ঘটনার দিন রেশমি স্বামী নিয়ামত উল্লাহ জীবনের সাথে দেখা করতে এসেছিল। বিকালে হঠাৎ বাসার একটি কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লাশ দেখে এলাকাবাসী হাটহাজারী মডেল থানায় খবর দেয়।

সংবাদ পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রেশমির মরদেহ উদ্ধার করে রাত ৮টার দিকে থানায় নিয়ে যায়। লাশ উদ্ধারের সময় বাসার দরজা জানালা ও মেইগেইট খোলা ছিল এবং বাসায় তখন কেউ ছিল না বলে জানা যায়। ঘটনার পর তাহমিনা রেশমির স্বামী নিয়ামত উল্লাহ জীবন পালিয়ে যায়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জীবনের পিতা মো. ইউসুফকে আটক করে থানায় নেয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, জীবন একজন মাদকাসক্ত যুবক। নিহত রেশমির সাথে স্বামী জীবনের প্রায় ঝগড়া হতো। নিহত তাহমিনা সুলতানা রেশমি (২৬)-র এর আগেও বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু ওই বিয়ে টেকেনি। রেশমির আগের সংসারের তামান্না সুলতানা জেসি নামে ৭ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

রেশমির মা জেসমিন সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, গত ৩ বছর পূর্বে কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছে তাহমিনা ও জীবনের। জীবন আমার ও আমার মেয়ের অনেক টাকা নষ্ট করেছে। আমার মেয়েকে নানা অজুহাত দেখিয়ে তিন বছরেও ঘরে তোলেনি। আগে রেশমির একবার বিয়ে হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে ঘরের তামান্না সুলতানা জেসি নামে ৭ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। জেসমিন সুলতানা এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। তিনি মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখা করে এ হত্যাকাণ্ডের উচিত বিচার দাবি করেন। 

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মো. ইউসুফ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে জীবন পলাতক রয়েছে। তাকে আটক করা গেলে ঘটনার মূলরহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে। নিহতের পরিবার থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ওসি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা