kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধর্মপাশায় এক স্কুল শিক্ষকের 'কীর্তি'

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্মপাশায় এক স্কুল শিক্ষকের 'কীর্তি'

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেনারুল ইসলাম অধিকাংশ সময় থাকেন ময়মনসিংহ শহরে। অথচ তার কর্মস্থল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানায় অবস্থিত কাইটাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মাসে ২/১ দিন স্কুলে গিয়ে তিনি হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করে তুলে নেন বেতন ভাতা। নিজের 'অনিয়মিত' উপস্থিতিকে আড়াল করতে তিনি বেছে নিয়েছেন আরেক অনিয়ম। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির মেয়েকে তিন হাজার টাকা বেতনে 'ভাড়ায়' নিযুক্ত করেছেন স্কুলে। এর বাইরে মাত্র দুজন শিক্ষক রয়েছেন স্কুলে। যাদের একজন প্রশিক্ষণে, অন্যজন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে। এসব অব্যবস্থাপনায় প্রায় দুই শ শিক্ষার্থীর পাঠদান নিয়ে তৈরী হয়েছে অচলাবস্থা। স্থানীয় অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে মিলেছে এমন চিত্র।

জানা যায়, ভারত সীমান্তবর্তী ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে অবস্থিত কাইটাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী ১৮৭ জন, শিক্ষক তিনজন। তাদের মধ্যে একজন সহকারী শিক্ষক খোরশেদ আলম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। আরেকজন তুরানা মানখিন রয়েছেন প্রশিক্ষণে। আরেকজন শিক্ষক সেনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে ভাড়াটে শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার।

স্থানীয় সাউদপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সেনারুল ইসলাম ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে স্কুলটিতে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কয়েক মাস যেতেই তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জনসন চিসিমের মেয়ে রুমা ম্রুংকে ঠিক করেন তার পরিবর্তে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদানের জন্য। রুমাকে ৩ হাজার টাকা মাসিক বেতনে 'প্যারা শিক্ষক'নিয়োগ দিয়ে তিনি ময়মনসিংহ শহরে বসবাস শুরু করেন। উপস্থিতি ৩/৪ দিন হলেও তিনি হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর দিয়ে বেতন ভাতাদি উত্তোলণ করে আসছেন। সেনারুল গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট ছাড়াই চাকরিতে ঢুকেছেন বলেও অভিযোগ আছে।

স্কুলটিতে পাঠদানরত প্যারা শিক্ষক রুমা ম্রং জানান, সহকারি শিক্ষক সেনারুল ইসলাম বিদ্যালয়ে মাঝে মধ্যে আসেন। তাই তার পরিবর্তে তিনি ক্লাস নিচ্ছেন। এ জন্য তাকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দেন সেনারুল।

এ প্রসঙ্গে সেনারুল ইসলাম বলেন, ‘মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে যাই। অসুস্থ্যতাজনিত কারণে কিছুদিন ছুটি নিয়েছিলাম।’ সত্যিই কী অসুস্থ্য ছিলেন? -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘বিষয়টি বুঝতেই পারছেন।’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার পারভীন বলেন,‘শিক্ষকের অনিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। ভাড়া শিক্ষক নিয়ে ক্লাস করানো অন্যায়। আর চাকরি নেওয়ার সময় যদি তথ্য লুকোচুরি করেন তাহলে শাস্তি হবে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এ সমস্ত বিষয়গুলোকে আমরা সিরিয়াসলি দেখছি। শিক্ষকের অনিয়মের বিষয়গুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখবো। গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট ছাড়া পুরুষরা শিক্ষক হবার যোগ্য হন না। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেকগুলো ধাপ থাকে। যদি এমনটি হয় তাহলে তার চাকরি থাকার কথা না।'

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জনসন চিসিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা