kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পঞ্চগড়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পঞ্চগড়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলনকে দুই ব্যক্তি মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সোমবার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান মিলন। 

সংবাদ সম্মেলনে মিলন জানান, রাজশাহীর জিন্নাত আরা রোকেয়া চৌধুরী ও পঞ্চগড়ের দেবনগর এলাকার পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ আমাকে নানাভাবে হয়রানি করছে। কখনো মামলা দিয়ে আবার কখনো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে সংবাদ সম্মেলন করে হয়রানি করে চলেছে। তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের বালুবাড়ী এলাকার পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ। এক বছর আগে তিনি বাংলাবান্ধায় পাথর ব্যবসা করার জন্য আব্দুস সাত্তার নামের এক ব্যক্তির কাছে ৪০ শতক জমি ভাড়া নেন। ওই জমি আব্দুস সাত্তার ১৯৯৭ সালে বগুড়ার ময়নুল হক সুলতান, রেজাউল বারী, হাসিব চৌধুরী, ইমতিয়াজ ও আমিনুর রশিদের কাছে বিক্রি করেন। ক্রেতার বগুড়ার অবস্থান করায় জমির দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন সাত্তারের উপরই। কিন্তু মধ্যে সাত্তার ওই জমি আব্দুল হামিদকে ভাড়া দেন। ভাড়াটে হামিদ এক পর্যায়ে সাত্তারকে প্রলোভন দেখিয়ে ওই জমি কিনে নিয়ে ঘর তোলেন। বিষয়টি গোপন ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে ওই জমির প্রকৃত মালিকরা (বগুড়ার ৫ ব্যক্তি) স্থানীয় সাইদুল ইসলাম, আজিজার রহমান ও তহিদুল ইসলামকে বায়নামা রেজিস্ট্রি করে দেন। 

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে আমি হামিদের অন্যায় কাজের সমর্থন না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি মামলা করে। এমনকি আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যে অভিযোগ করছে, সংবাদ সম্মেলনও করছে। অথচ ওই জমির সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। 

এদিকে রাজশাহীর বাসিন্দা জিন্নাত আরা রোকেয়া চৌধুরী বাংলাবান্ধায় তার জমি আমি দখল করেছি বলে মিথ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলাবান্ধায় এসএ ২৩৪ নং খতিয়ানে ৬৭ দাগে ৬৬ শতক জমি ক্রয় করে। বিক্রেতা দলিতে ৬৭ ও ৬৫ দাগ উল্লেখ করলেও ৬৭ দাগে ৬৬ শতক জমি বুঝিয়ে দেন। কিন্তু তিনি সম্প্রতি ৬৫ দাগের অর্ধেক জমি তার দাবি করে বসেন। যেটা আমার কেনা ও দখলে রয়েছে। এমনকি তিনি আদালতে মামলাও করেন। মামলার পরে তহশিলদার ও সার্ভেয়ার সরেজমিনে তদন্ত করে ৬৭ দাগে ৬৬ শতক জমি দখলে আছে বলে নিশ্চিত করেন। তারপরও তিনি মিথ্যে অভিযোগ করেই চলেছেন।

চেয়ারম্যান মিলন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্যই তারা উঠে পড়ে লেগেছে। আমি তাদের অন্যায় আবদারে সমর্থন দেইনি বলে তারা এভাবে আমাকে হয়রানি করছে। বিষয়টি আমি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে তেঁতুলিয়ার লথিবগছ এলাকার শাহজাহান আলী অভিযোগ করে বলেন, হামিদের কাছে আমি পাথরের সাড়ে ১৯ লাখ টাকা পাবো। টাকা চাইতে গেলে উল্টো আমার নামে চার চারটি মামলা দেন তিনি। ১৮ দিন জেলও খাটতে হয়েছে আমাকে। এখনো কোনো টাকা ফেরত দেয়নি। আসলে তিনি একজন প্রতারক। মানুষকে ঠকানোই তার কাজ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে হামিদের মামলা ও হয়রানির শিকার ওই এলাকার আজিজার রহমান, সাইদুল ইসলাম, তহিদুল ইসলাম, আতাউর রহমান, সাবুল, আবুল কালাম, আব্দুর রশিদ ও জামিরুলসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

সম্প্রতি পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রাজশাহীর জিন্নাত আরা রোকেয়া চৌধুরী ও পঞ্চগড়ের দেবনগর এলাকার পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলনের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা