kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাপাহারে চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করায় বিপাকে পথচারীরা

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি    

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাপাহারে চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করায় বিপাকে পথচারীরা

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার গোপালপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গ্রাম্য প্রভাবশালী মহলের মদদে কয়েকজন আদিবাসী গোত্রের লোকজন গ্রামের মধ্যে চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এ ঘটনার শিকার হয়ে চরম বিপাকে পড়েছে ওই গ্রামের কয়েকটি পরিবারসহ বিভিন্ন গ্রামের চলাচলকারী পথচারীরা।

জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরে ওই গ্রামের আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা বিমল উরাওয়ের সঙ্গে একই গ্রামের মুসলিম পরিবারের বাসিন্দা আবদুল বারিকের বসতবাড়ির সীমানা ও জমি-জমার রেকর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধসহ আদালতে মামলা চলে আসছে। এরই জের ধরে সম্প্রতি গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মদদে বিমল উরাও তার লোকজন নিয়ে ওই গ্রামে চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বাঁশ ও কাঠের খুটি পুঁতে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। ফলে উক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচলকারি স্থানীয় লোকজনসহ গোপালপুর মোড়সহ স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সকল প্রকার যানবাহনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উত্তর পাড়ার বাসিন্দা আকবর আলী, এমরান আলী, ইউসুফ আলী, আহসান আলী, আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, ওই গ্রামের লোকজনসহ অত্র এলাকার বিভিন্ন গ্রামের লোকজন বিগত প্রায় ৩০-৪০ বছর ধরে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছেন। আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে ওই গ্রামে বসবাসকারী লোকজনসহ পথচারীরা ওই রাস্তায় চলাচল করতে না পেরে সীমাহীন কষ্ট করে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করছে। বর্তমানে ওই প্রভাবশালী মহল ও আদিবাসীদের ভয়ে গ্রামবাসী এক রকম নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। গ্রামবাসীদের এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতি সম্প্রতি সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরী ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই ঘটনাস্থলে গিয়ে জনস্বার্থে ওই রাস্তা হতে সকল প্রকার খুঁটি ও বেড়া অপসারণ করে রাস্তাটি খুলে দেয়। এর পর প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ অফিসে না পৌঁছতেই আবারো আদীবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এর পর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আবারো অভিযোগ করা হয়, কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখনও রাস্তাটি বন্ধ থাকায় 
গ্রামবাসীসহ পথচারীরা চরম বিপদে পড়ে জরুরী প্রয়োজনে বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে ওই গ্রামের উত্তর প্রান্তের বাসিন্দাদের দৈনিন্দন কাজ-কর্ম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তায় খুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বিমল উরাওয়ের লোকজন ভুক্তভোগীদের চলাচলে ভয়-ভিতিসহ বিভিন্ন ধরনের বাধা প্রদান করছে বলে ভুক্তভোগী জনগণ জানান। ভুক্তভোগী ওই পরিবারগুলো তাদের এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরীর সাথে কথা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উভয় পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে এবং সম্মতিতে আমরা রাস্তাটি খুলে দিয়ে এসেছি। কেন তারা আবার প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করল তা জানি না। তবে অচিরেই আমরা বিষয়টির নিষ্পত্তি নিয়ে দরবার করে এর সমাধান করার চেষ্টা করব।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টম্বর মাসে একই ঘটনায় ওই আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন ওই রাস্তায় একই ধরনের প্রতিবন্ধকার সৃষ্টি করেছিল। থানা পুলিশ ও প্রসাশনের হস্তক্ষেপে তারা তা খুলে দিতে বাধ্য হলেও রহস্যজনকভাবে এক বছর পরে আবার তারা ওই রাস্তায় একই ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জনগণকে বিপদে ফেলেছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা