kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শালতা নদীর খনন কাজ বন্ধে বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শালতা নদীর খনন কাজ বন্ধে বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি

বহুল প্রত্যাশিত শালতা নদীর খনন কাজ শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে এসে বন্ধ রয়েছে খনন কাজটি। এতে করে চলতি বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশিত হতে না পারায় তা আটকে রয়েছে ফসলি জমিতে। ফলে তলিয়ে রয়েছে ঘরবাড়ি, গাছপালা, উঠোন। চারদিকে পানি আটকে থাকায় ডেঙ্গু ও সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোনামুখী গেট দিয়ে বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি শালতা নদীতে নিষ্কাশিত হয়ে থাকে। কিন্তু এই গেটের মুখ যেমন উঁচু হয়ে গেছে তেমনি নদীর মাঝখানে বাঁধ দিয়ে মাছের চাষ করছে একটি মহাল। তারা বাঁধ দিয়ে সোনামুখী গেটটি আরও অকেজো করে ফেলেছে। এ কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আর এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু বাঁধ কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত করা হয়নি।

স্থানীয় গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছ, তালা ও ডুমুরিয়ার ওপর দিয়ে প্রবাহিত শালতা নদীর ওপর ভর করে এক সময় বিস্তীর্ণ জনপদের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হত। শালতা ছিল মৎস্যজীবিদের জীবিকার প্রাণ। শালতা নদী খননের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তালা প্রেসক্লাব, পানি কমিটি, শালতা বাঁচাও কমিটি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণের সহযোগিতায় শালতা নদী পুনর্জীবনে নদী অববাহিকার ভুক্তভোগী মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জনসমাবেশ, মানববন্ধন,  প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে শালতাসহ খুলনার ৫টি নদীর নব্যতা হ্রাস শুরু হয়। এর মধ্যে ভদ্রা ও শালতা খননের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নদী খননে প্রকল্প জমা দেওয়া হয়। এরপরে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে একনেকের বৈঠকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় বর্তমান সরকার। তিন বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় ভদ্রা ও শালতার ৩০ কিলোমিটার নদী খননে ৯টি প্যাকেজে ৭টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। নদীর তলদেশ ৬০ মিটার ও উপরিভাগে ১১০ মিটার খনন কাজ করার কথা রয়েছে। একাধিক প্যাকেজ প্রকল্পে বাস্তবায়নাধীন খনন কাজে ঠিকাদারদের প্রকল্প সীমানা নিয়ে রশি টানাটানি, মতদ্বন্দ্বও অবৈধ দখলদারদের নদীর সীমানা নির্ধারণ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে মতবিরোধ শুরু হয়। ফলে গত তিন মাস ধরে শালতা নদীর আধা কিলোমিটার খনন কাজ বন্ধ রয়েছে।

তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু অভিযোগ করে বলেন, নানা অনিয়মের মধ্যে দিয়ে শালতা নদীর খনন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও খনন কাজের ঠিকাদার নামমাত্র খনন করে লুটপাট করছে। সিডিউল মোতাবেক কোনো কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে তদারকি কর্মকর্তাকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু জানান, ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখেয়ালির কারণে তার ইউনিয়নের প্রায় পাঁচটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নদীর জমি দখল করে মাছ চাষ করায় নদী খননে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আবু তালেব হোসেন জানান, নদীর ওই স্থান নরম থাকায় স্কেভেটর মেশিন নিয়ে কাজ করা যাচ্ছে না। তবে কাজ করার মতো হলে খনন কাজ শুরু করবো।

এ ব্যাপারে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এ বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খুলনা বিভাগীয় প্রকৌশলী পলাশ আহমেদ  জানান, সীমানা নিয়ে একটি সমস্যা হচ্ছে। বাঁধ কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে সিডিউলের বাইরে কোনো কাজ হবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা