kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও শিক্ষকের ওপর হামলা

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি    

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার চেয়ে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করবে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। গতকাল রবিবার নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসীন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সোমবার থেকে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করবে। আমাদের সহকর্মী জনাব ড. ফিরোজ আহমেদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত  এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন বিভাগের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাগুলো এই কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে। প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সকল প্রকার পাঠদান, প্রেজেন্টেশন, ক্লাস টেস্ট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

এদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. গাজী মহসীন ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে আবার শিক্ষক সমিতির কর্মবিরতি ঘোষণা দেওয়ায় তাকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলের প্রভোস্টের দায়িত্বে ছিলেন। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হয়েও গতকাল তদন্ত কমিটির সভায় আসেননি।

জানা যায়, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. গাজী মো. মহসীন তদন্ত কমিটির প্রথম দুই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক কমিটির পদ থেকে সড়ে যাওয়ার পেছনে শিক্ষক রাজনীতির প্রভাব রয়েছে। তদন্ত কমিটি থেকে পদত্যাগ করে তিনি ঘটনাটি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তিনি তদন্ত কমিটির দুটি সভায় উপস্থিত থেকে শেষ দিনে গতকাল রবিবার রহস্যজনকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষক সমিতির কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. গাজী মহসীন বলেন, আমি আমার লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এ  ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলেননি। 

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব কাওসার হোসেন বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ছিল রবিবার। তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের অনুমতি নিয়ে গতকাল রবিবার আমি তদন্ত কমিটির সভা ডাকি। কিন্তু সভায় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আসেননি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অনুপস্থিত থাকায় তদন্ত কমিটির সভা হয়নি। না আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমি পদত্যাগ করেছি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অনুপস্থিত থাকায় আমাদের সভা  হয়নি। আমরা প্রতিবেদনও জমা দিতে পারিনি। 

তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের পদত্যাগের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিদার-উল- আলম বলেন, যেখানে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের তদন্ত করে গতকাল রবিবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা সেখানে তিনি আমাকে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন, কিন্তু আমি গ্রহণ করিনি। তদন্ত কমিটির পাঁচ কার্যদিবসের শেষদিনে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়াটা অযৌক্তিক। 

প্রসঙ্গত, গত শনিবার(৩১ আগস্ট)  রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলে ধূমপানকে কেন্দ্র ছাত্রলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম রবিন এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ধ্রুব'র অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরদিন রবিবার রাতে একই ঘটনার জের ধরে আবার সংঘর্ষ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. ফিরোজ। এ সময় ছাত্রদের হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। এখন তিনি আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় শিক্ষকসহ অন্তত ১০ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা