kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দামুড়হুদায় কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্র বন্ধ

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৯:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দামুড়হুদায় কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্র বন্ধ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর ও পারকৃঞ্চপুর মদনা ইউনিয়নে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় দু’টি কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্র। কেন্দ্র দুটি দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে দুইজন করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। প্রথম দিকে বছর দু’য়েক চলার পর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। জয়রামপুরের কেন্দ্রে চলছে ব্যক্তিগত একটি ওয়ার্কশপের কার্যক্রম।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে দামুড়হুদা উপজেলায় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ ও বিপণনের সুবিধার্থে ১২ বছরের চুক্তিতে লিজ নেওয়া জমিতে ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জয়রামপুর শেখ পাড়া নামক স্থানে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর মহাসড়কের ধারে ও পারকৃঞ্চপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে কৃষি অধিদপ্তরের দ্বিতীয় শষ্য বহুমুখীকরণ প্রকল্প কতৃক দুটি কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এই কেন্দ্রে রয়েছে পানি বিদ্যুৎ সহ মালামাল গ্রেডিং করার মতো ব্যবস্থা।

২০১৫ সালের ৯ই নভেম্বর তৎকালিন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদুল ইসলাম আজাদ বিপণন কেন্দ্রদু’টির উদ্বোধন করেন। পরে এলাকায় কৃষকরা সমিতির মাধ্যমে এলাকায় উৎপাদিত পণ্য বেগুন, লাউ, চিচিংগা, পেঁপে, কলা, কুমড়া, কাঠালসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল সংগ্রহ করে বিপণন কেন্দ্রে গ্রেডিং করতো। পরে ওই সমিতি ও স্থানীয় ও বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এই কেন্দ্র থেকে মালামাল ক্রয় করে ঢাকা খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাতো।

তবে গত প্রায় বছর দেড়েক ধরে কৃষি পণ্য সংগ্রহ বিপনণ কেন্দ্রের সকল কায্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে। এখানে লোহার গেট গ্রিল, জানালা তৈরীসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম।

লিজ কৃত জমির মালিক জয়রামপুর চৌধুরী পাড়ার মুনছুর আলির মন্ডলের ছেলে ইদ্রিস বলেন, তার সাথে প্রতি মাসে পাঁচশত টাকা ভাড়া চুক্তি থাকলে ও অদ্যবদি তিনি কোনো ভাড়া পাননি। এখানকার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গত মাস ছয়েক আগে সে প্রায় ১০ হাজার টাকা বকেয় বিদ্যুৎ বিল পরিষোধ করে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি বসিয়ে নিজের ঘরের জানালা, দরজাসহ বিভিন্ন কাজ করে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রের কর্মরত উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, এলাকায় পণ্য সংগ্রহ বিপনণ কেন্দ্র হওয়ায় তারা অনেক বাড়তি সুবিধা পাচ্ছিলেন। এই এলাকার জয়রামপুর, লোকনাথপুর, দুধপাতিলাসহ এই এলাকার কষকরা জয়রাপুর সংগ্রহ ও বিপনণ কেন্দ্র হওয়ায় তাদের উৎপাদিত মালামাল উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিক্রি করতে বাড়তি সুবিধা পেত। কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইদ্রিস আলি কাউকে না জানিয়ে কেন্দ্রের পাশে গড়ে তোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গ্রিল,জানালা, গেট তৈরি করছে। তাঁকে নিষেধ করা হয়েছে সেখানে সে আর এসব কাজ করবেনা। দ্রুত সকল মালামাল সরিয়ে নিবে।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রের দুই মুখে জয়রামপুর কাঠাল তলা ও দামুড়হুদা তেল পাম্পের নিকটে বসে মালামাল ক্রয় করার কারণে এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মালামাল ওই স্থানে নিয়ে যায়না। ফলে কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। একই অবস্থা হয়েছে পারকৃঞ্চপুর-মদনার কেন্দ্রটির। তবে আগামী বছর নতুন প্রকল্প আসলে জয়রামপুর ও পারকৃঞ্চপুর মদনা ইউনিয়নের দু’টি কৃষি পণ্য সংগ্রহ বিপনণ কেন্দ্রের প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা