kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অনুপ্রবেশকারী দুই বিদেশি জাহাজের শাস্তি নির্ধারণে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৩:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনুপ্রবেশকারী দুই বিদেশি জাহাজের শাস্তি নির্ধারণে তদন্ত কমিটি

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢোকা দুটি বিদেশি জাহাজের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কী উদ্দেশ্যে জাহাজ দুটি বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকেছে, সেটা খুঁজে দেখবে কমিটি। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী সভায় মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। গত ২০ আগস্ট ‘সি উইন্ড’ এবং ‘সি ভিউ’ নামের মাছ ধরার জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অনুপ্রবেশ করে।

সভায় মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রইছউল আলম মণ্ডল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব এম খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামের এক প্রভাবশালী শিপিং ব্যবসায়ী জাহাজ দুটি মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জাহাজ দুটির স্থানীয় এজেন্ট ‘ইন্টারমোডাল প্রাইভেট লিমিটেড’। ‘সি উইন্ড’-এর দৈর্ঘ্য ৪৬ মিটার ও ‘সি ভিউ’-এর দৈর্ঘ্য ৪৫ মিটার। স্থানীয় এজেন্ট জাহাজ দুটি মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ অনুযায়ী এনেছে বলে দাবি করেছে। তবে আইনগতভাবে এভাবে জাহাজ আনার সুযোগ নেই বলে জানান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

কাস্টমসকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাছ ধরার দুটি ট্রলার মিথ্যা ডিক্লারেশন দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। আমরা সেটা ইনকোয়ারি করে ধরতে পারেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সেটা আমাদের জানানোর পর তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, জাহাজ দুটির ওই নামই আসল কি না সেটা খতিয়ে দেখবে কমিটি। মেরামত বা যেকোনো কারণে ট্রলার বা জাহাজ বাংলাদেশে ঢুকতে গেলে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে তারা ঢুকতে পারবে।

জাহাজ দুটি কোন দেশের পতাকাবাহী—জানতে চাইলে কর্মকর্তারা জানান, তারা ক্যামেরুনের পতাকা নিয়ে এসেছিল। সেটা তারা নামিয়ে ফেলে আটকের আগমুহূর্তে। জাহাজ দুটি এখন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে কন্টিনেন্টাল মেরিন ফিশারিজ লিমিটেডের জেটিতে আছে। নষ্ট ইঞ্জিন মেরামতের কথা বলে জাহাজ দুটি প্রবেশ করেছে। কোন দেশ থেকে তারা এসেছে সেটাসহ অনেক বিষয়ে তারা মিথ্যা ঘোষণা দিয়েছে। এ জন্য তাদের আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবেও এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জাহাজে আটজন করে নাবিক ছিল। জাহাজে আরো কী ছিল সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে কিছু মাছ ধরার জাল ছিল। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জানা গেছে, জাহাজ দুটি ইন্ডিয়ান ওশান টুনা কমিশনের (আইওটিসি) ইলিগ্যাল, আনরিপোর্টেড এবং আনরেগুলেটেড ফিশিংয়ের (আইইউইউ) তালিকাভুক্ত।

মত্স্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরো জানান, জাহাজ দুটির কাগজপত্রে অনেক ত্রুটি রয়েছে। পোর্ট ক্লিয়ারেন্স পরিবর্তন করা হয়েছে। অর্থাৎ এক জাহাজের পরিবর্তে এই জাহাজের নাম যোগ করা হয়েছে। পোর্ট ক্লিয়ারেন্স অনুযায়ী জাহাজের কম্বোডিয়া যাওয়ার কথা। সেখানে না গিয়ে জাহাজ দুটি কিভাবে বাংলাদেশে এলো সে বিষয়ে স্থানীয় এজেন্ট কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। মেরামতের কথা বলা হলেও জাহাজে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা