kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় ভোগান্তি

প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহার

চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় ৯ দফা দাবিতে গতকাল রবিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের গণ ও পণ্য পরিবহন ধর্মঘট গতকাল বিকেলেই স্থগিত করা হয়েছে। ১০ ঘণ্টা মানুষের ব্যাপক দুর্ভোগের পর প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ধর্মঘট স্থগিত করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ।

ধর্মঘটের আওতায় গণ ও পণ্য পরিবহন থাকলেও চট্টগ্রাম নগরসহ বিভিন্ন সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোটেম্পোসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠেছে, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও ধর্মঘট শুরুর আগে প্রশাসন কেন আলোচনায় বসেনি।

অন্যদিকে, ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রামের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। সংগঠনটিতে আরো রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক মিয়া ও ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজি জহুর আহমদ প্রমুখ।

ধর্মঘট চলাকালে গতকাল চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায় মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ। অনেকে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে গাড়ি না পেয়ে কর্মস্থলে যেতে পারেনি। আবার বিভিন্ন গাড়ি পরিবর্তন, হেঁটেও অনেকে গন্তব্যে পৌঁছান। হাল্কা যানবাহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চলাচল অন্যদিনের চেয়ে কম ছিল। চট্টগ্রাম নগর থেকে আশপাশের জেলা, উপজেলাগুলোতে গণ ও পণ্য পরিবহন কমে যায়।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত গাজী কামরুল হাসান গতকাল সকালে বাস না পেয়ে হাটহাজারী থেকে ট্রেনে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশনে আসেন। এরপর সেখান থেকে সকাল ৯টার দিকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় ১৩০ টাকায় অলংকার এলাকায় যান। নগরের অক্সিজেন তিন রাস্তার মোড়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অসংখ্যা যাত্রী। কিন্তু পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় অনেকে দীর্ঘ সময় সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বলে জানান। মাঝেমধ্যে একটি বাস-মিনিবাস এলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন যাত্রীরা। এই দৃশ্য দেখা যায়, নগরের জিইসি মোড়, বহাদ্দারহাট, আগ্রাবাদসহ সব এলাকায়।

নগরের দামপাড়ায় বাস কাউন্টারগুলোতে এসে কক্সবাজারের বাস না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন অনেক যাত্রী। সেখানে সৌদিয়া পরিবহনের ইনচার্জ মোহাম্মদ সেলিম জানান, গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ আগাম টিকিট বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু যাত্রীরা যেতে পারেননি।

এই অবস্থায় ধর্মঘট অবসানের লক্ষ্যে গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। সোয়া ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা চট্টগ্রাম ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু বলেন, ‘আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যোগাযোগমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ৯ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা বিকেল ৪টায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা