kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামির স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

বেনাপোল প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আসামির স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

ছবি: কালের কণ্ঠ

যশোরের শার্শায় আসামির স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দিন হুসাইন রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঘটনা তদন্তে পুলিশের গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। রবিবার প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও কমিটিকে নতুন করে সাতদিন সময় দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, শার্শায় নিজঘরে গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে রবিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আসামিদের প্রত্যেককে পাঁচদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালতের বিচারক শুনানি শেষে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিরা হলেন, শার্শার চটকাপোতা গ্রামের কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, লক্ষণপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ ও আব্দুল কাদের।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ মোনায়েম হোসেন বলেন, রবিবার শুনানি শেষে তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিচারক। ইতিমধ্যে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। রিমান্ড শেষে তাদের ডিএনএ টেস্টের জন্য আলামত সিআইডিতে পাঠানো হবে।

এ মামলার অজ্ঞাত প্রধান আসামি প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোনায়েম হোসেন বলেন, অজ্ঞাত আসামি শনাক্তে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদারকে প্রধান ও নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান ও কোর্ট ইন্সপেক্টর ফকির আজিজুর রহমানকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়। ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবেদন তিন দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও আরো সাত দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটি।

এ প্রসঙ্গে যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, তদন্ত কমিটি আরো সাতদিন সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে কমিটি।

জানা যায়, ২ সেপ্টেম্বর শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর এলাকায় ওই গৃহবধূর বাড়িতে গভীর রাতে যান স্থানীয় গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল, সোর্স কামরুলসহ চারজন। তারা ওই গৃহবধূর কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেওয়ায় এসআই খায়রুল ও কামরুল গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ভিকটিম শার্শা থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত একজনের নামে মামলা করেন।

মামলাটি ৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ হেড কোয়ার্টাসের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় যশোর পিবিআই। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় পরিদর্শক শেখ মোনায়েম হোসেনকে। দায়িত্ব পেয়েই ৬ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূ বাড়ি পরিদর্শন ও জবানবন্দি গ্রহণ করেন তিনি।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওই গৃহবধূ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে এলে গণধর্ষণের বিষয়টি জানাজানি হয়। ওই দিন রাতেই শার্শা থানায় মামলা করেন গৃহবধূ। মামলায় এসআই খায়রুলের নাম উল্লেখ না করে কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, আব্দুল লতিফ, আব্দুল কাদের ও এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

এদিকে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতা থাকায় শনিবার রাতে শার্শা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিউর রহমানকে প্রত্যাহার করে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর গণধর্ষণের মূল অভিযুক্ত এসআই খায়রুল ইসলামকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে গণধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর পাশে জেলা বা উপজেলার কোনো নারী সংগঠন বা মানবাধিকার সংগঠনের লোকজন না দাঁড়ানোর ব্যাপারে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা